default-image

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ১৫০ জন চিকিৎসক ও ৭১ জন স্বাস্থ্যকর্মী এককালীন বিশেষ সম্মানী পাচ্ছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ওই বিশেষ সম্মানী পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুয়ায়ী সরকারের উদ্যোগে সব মিলিয়ে খুমেক হাসপাতালের ২২১ জনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। তবে খুলনার কোনো নার্স এই প্রণোদনা পাচ্ছেন না। এতে নার্সরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

বিশেষ সম্মানীর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে সম্প্রতি এ–সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠি থেকে জানা যায়, দেশের ১৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ৮০২ জন চিকিৎসক, ৪৪৫ জন নার্স এবং ৫২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রায় ৯ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকে ২০২০ সালের জুলাই মাসের মূল বেতনের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা বিশেষ সম্মানী ভাতা হিসেবে পাচ্ছেন।

খুমেক হাসপাতালের ২২১ জনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। তবে খুলনার কোনো নার্স এই প্রণোদনা পাচ্ছেন না। এতে নার্সরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

প্রণোদনা না পাওয়ার বিষয়ে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) খুলনা বিভাগীয় সভানেত্রী শিলা রানী দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুলনায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় নার্সরাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। করোনা রোগীদের একেবারে কাছে গিয়ে সেবা দিয়েছেন নার্সরা। আমিসহ অনেকেই আক্রান্ত হয়েছি। প্রণোদনার জন্য আমরা সেবা দিইনি। তবে খুলনার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রণোদনা পেয়েছেন, শুধু নার্সরা পাননি। মেয়েরা এখন খুবই হতাশ। দেশের অন্য হাসপাতালের নার্সরা পেল, আর আমরা প্রণোদনাবঞ্চিত হলাম, এটা খুবই কষ্টের।’

করোনা রোগীদের একেবারে কাছে গিয়ে সেবা দিয়েছেন নার্সরা। প্রণোদনার জন্য আমরা সেবা দিইনি। তবে খুলনার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রণোদনা পেয়েছেন, শুধু নার্সরা পাননি। মেয়েরা এখন খুবই হতাশ। দেশের অন্য হাসপাতালের নার্সরা পেল, আর আমরা প্রণোদনাবঞ্চিত হলাম, এটা খুবই কষ্টের।
শিলা রানী দাস, স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) খুলনা বিভাগীয় সভানেত্রী
বিজ্ঞাপন

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাবমতে, খুলনা বিভাগে করোনায় ৫৬৭ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৯৮৩ এবং সুস্থ হয়েছেন ২৭ হাজার ৬০১ জন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন করোনা রোগীদের সেবায় প্রথম শ্রেণির যোদ্ধা। বিভাগের সবচেয়ে বড় এই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনার লক্ষণ থাকা ও পজিটিভ হওয়া সব রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এককালীন বিশেষ সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে বাজেট প্রেরণের জন্য বলা হয়। এরপর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত খুমেকের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নামের তালিকা পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর খুলনার নার্সদের প্রণোদনার জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে ২৭১ জন নার্সের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। ওই অধিদপ্তর থেকে নার্সদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। এর মধ্যেই গত ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট-১ শাখার পক্ষ থেকে দেশের ১৪টি হাসপাতালের জন্য ৯ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ৪৩০ টাকা বরাদ্দ দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়।

হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫০ জন চিকিৎসক এবং ৭১ জন স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ সম্মানী বা প্রণোদনা পাচ্ছেন। তবে নার্সরা কেউ এই সম্মানী পাচ্ছেন না। আমরা পেয়ে যাচ্ছি, তাঁরা পাচ্ছেন না, এটা খুবই পীড়াদায়ক।
বিধান চন্দ্র ঘোষ, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ প্রণোদনার তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রথম ধাপে সম্মানী পাওয়াদের তালিকায় চিকিৎসকের সংখ্যাই বেশি। এ সংখ্যা ১৫০। এ ছাড়া রয়েছেন ১৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব)। বাকিরা অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার, ওয়ার্ডমাস্টার, আয়াসহ বিভিন্ন পদের কর্মচারী।

এর মধ্যে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের মধ্যে দুই মাসের বিশেষ সম্মানী বাবদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে মেডিকেল অফিসার পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য ৫০ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ (ল্যাব) অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিধান চন্দ্র ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫০ জন চিকিৎসক এবং ৭১ জন স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ সম্মানী বা প্রণোদনা পাচ্ছেন। তবে নার্সরা কেউ এই সম্মানী পাচ্ছেন না। আমরা পেয়ে যাচ্ছি, তাঁরা পাচ্ছেন না, এটা খুবই পীড়াদায়ক।’ তিনি বলেন, ‘প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা ছাড় হয়েছে। বিল ইতিমধ্যে আমাদের কাছে এসে গেছে। মঙ্গলবার অ্যাকাউন্টস অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়ামাফিক সেখানকার কাজ শেষ হলে টাকা পরিচালকের হিসাবে জমা হবে। কারও ব্যক্তি নামে চেক ইস্যু হয়নি। হাসপাতাল থেকে যাঁদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা অফিস থেকে বিলের মাধ্যমে টাকা উঠাতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন