খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, হাসপাতালে ৩০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এখনো জনবল পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে নতুন করে খুলনা সদর হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার থেকে ওই হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। আগে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁদেরও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। আর একটু জটিল রোগীদের পাঠানো হচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে যে রোগী ভর্তি করা হবে না তার নোটিশও টানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রধান ফটকের সামনে। ওই হাসপাতালে ৭০টি শয্যা করা হবে।

এর আগে ১১ জুন খুলনা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকে ওই হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। গত বছর ওই হাসপাতালে করোনা ইউনিট করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বসানো হয়েছিল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। ১২টি আইসিইউ শয্যাও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার প্রভাব কমে যাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলে ওই হাসপাতাল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। হাসপাতালের চতুর্থ তলায় স্থাপিত করোনা ইউনিটে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো সিঁড়ি নেই। এ কারণে একই সিঁড়ি ব্যবহার করায় সাধারণ রোগীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় সিভিল সার্জনের আপত্তির মুখে সেখানে করোনা রোগী ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত করোনা রোগীর চাপ সামলাতে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুরো হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ওই হাসপাতালের মুখপাত্র করা হয়েছে নাক-কান-গলা বিভাগের কনসালট্যান্ট কাজী আবু রাশেদকে। তিনি বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রোগী ভর্তি করা হবে। এটি হবে ৭০ শয্যার আলাদা করোনা হাসপাতাল। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত আটজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাসপাতালের অন্য যেসব চিকিৎসক রয়েছেন তাঁরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। শ্বাসকষ্ট হওয়া রোগীদের হাসপাতাল থেকেই অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে, তবে যাঁদের আইসিইউ প্রয়োজন হবে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাঠানো হবে।