অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও অনেক বেড়েছে। শয্যার সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে ৪টি হাসপাতালের সব কটি আইসিইউ পরিপূর্ণ। সেখানে কোনো রোগী মারা গেলে শয্যা খালি হবে, সেই অপেক্ষা করছেন অন্য রোগীরা।  

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় ৬৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৪৫ শতাংশ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার ছিল ৩৯ ও বুধবার শনাক্তের হার ছিল ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে খুলনা জেলায় ৫ হাজারের মতো করোনা রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোগী বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত ১৩০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৭ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৪ জন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা সদর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। ওই সময়ের মধ্যে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জন মারা গেছেন। আর বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন ১০ জন।

খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে রোগী ভর্তি আছেন ১৮৫ জন। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত রোগী ১২৬ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগী ৩১ জন। এ ছাড়া ওই হাসপাতালে থাকা ২০টি এইচডিইউ শয্যা ও ২০টি আইসিইউ শয্যায় আছেন ১৯ জন করে। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে ২১ জন করোনায় আক্রান্ত ও ২৫ জনের উপসর্গ রয়েছে। এ ছাড়া ওই সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৯ জন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতালে (৮০ শয্যার করোনা ইউনিট) বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭১ জন। ওই হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে ২৩ জন নতুন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ জন।

খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক প্রকাশ চন্দ্র জানান, ওই হাসপাতালের ১০টি আইসিইউসহ ৪৫ শয্যার করোনা ইউনিটে বর্তমানে কোনো শয্যাই খালি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছেন ৩ জন। ওই সময়ের মধ্যে সেখানে কোনো একজন রোগী মারা গেছেন।

বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মিজানুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে বর্তমানে ১২৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ৮ জন এবং এইচডিইউতে ১০ জন চিকিৎসাধীন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২১ জন রোগীর।