খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে। এসব জেলায় নতুন করে অনেকের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

খুলনায় এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৮২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এই জেলাতেই। গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে নয়জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. আতিয়ার রহমান শেখ বলেন, গতকাল পর্যন্ত খুলনায় ৮২ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নতুন করে নয়জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুনদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজন এবং খুলনা জেনারেল হাসপাতালে একজন রোগী চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে জেলায় ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন, খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে তিনজন, বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে দুজন এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ জন।

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। গতকাল ভর্তি হয়েছে চারজন। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালনসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, সাতক্ষীরা যেসব ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, প্রায় সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই জেলায় এসেছে। ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরা মানুষ সাতক্ষীরায় আসা নিয়ে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে নয়জন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ও চায়না বাংলা হাসপাতালে দুজন। এর মধ্যে গতকাল সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে একজন ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে। অন্য পাঁচজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে গত তিন দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আটজন চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের সবাই কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে এই জেলায় এসেছে। বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই আটজনের মধ্যে সাতজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। একজন সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।

গতকাল থেকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এত দিন জেলার কোনো সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএসওয়ান (NS1) পরীক্ষার সুযোগ ছিল না।

নড়াইল সদর হাসপাতালে দুই শিশুসহ চারজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে ভর্তি করা হয় দুই শিশুকে। তারা স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিপাশা বিশ্বাস (৮) সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের ননীক্ষীর গ্রামের গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের মেয়ে। আরেকজন মেহেদি হাসান (৮) লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুলের ছেলে। অন্য দুজন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ফিরে সোমবার বিকেলে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

নড়াইল সদর হাসপাতালের আরএমও আ ফ ম মশিউর রহমান জানান, ওই দুই শিশু স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। শিশু দুটি শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। সোমবার বিকেলে ভর্তি হওয়া দুজন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। তারা পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসক দল প্রস্তুত আছে। নিয়ন্ত্রণকক্ষও খোলা হয়েছে।

তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা; প্রতিনিধি, খুলনা, বাগেরহাট ও লোহাগড়া, নড়াইল

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন