default-image

সময়ের সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যেতে পারে, এমন আশা প্রকাশ করা হলেও খুলনার চিত্র হতাশাজনক। সংক্রমণের ১৫০ দিনে বা ৫ মাসেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে। খুলনা বিভাগে প্রথম কোভিড–১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার ১৫০তম দিন আজ রোববার বিভাগের ১০ জেলায় রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

খুলনা বিভাগে এখন কোভিড–১৯–এ আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৮১৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৭১০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় বিভাগে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৬৮ শতাংশ।

খুলনা বিভাগে প্রথম তিন মাসে সংক্রমণ বিস্তারের গতি বেশ ধীর ছিল। এরপর জুলাই মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই অনেক বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এখনো বদলায়নি। দৈনিক গড় হিসাবে চলতি আগস্ট মাসে সংক্রমণ পরিস্থিতি আগের মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪৪ রোগী শনাক্ত হন। চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে গড়ে ২৪৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আজ খুলনা নগরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, শহর এখন করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে গেছে। দোকানপাট সব খোলা। মানুষের চলাফেরা বেড়েছে। যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। কেডিএ অ্যাভিনিউতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাপক যানজটও দেখা গেছে। আর মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই।

নগরের ময়লাপোতা মোড়ের একজন রিকশাচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘স্যুট–কোট পরা কত মানুষির মুখে মাস্ক নি, আর আমরা তো রিকশা চালাই। চারদিক একটু তাকায়ে দ্যাখেন কয়ডা লোকের মুখি মাস্ক আছে। আর রিকশাচালকরা যে কষ্ট করে, তাতে করোনা ধরবে না। তবে মাস্ক কিন্তু সঙ্গে রাখিছি। মাঝেমধ্যি যাত্রীরা পরতি বলে, তখন বাধ্য হুয়ে পরতি হয়।’

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য এস এম ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা শহর আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। সরকারি বিধিনিষেধও শিথিল হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় খুলনায় গঠিত সরকারি কমিটির তৎপরতা অনেক দিন ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে না। মাঝে লোকজন কিছুটা সচেতন হয়েছিলেন, তবে এখন তাঁদের সচেতনতা অনেকটাই কমে গেছে। তাঁর মতে, প্রশাসনের তৎপরতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

গত ১৯ মার্চ খুলনা বিভাগের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। জুন মাসের শেষ দিন, অর্থাৎ ১০৪তম দিনে বিভাগে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৭৪, ওই সময়ে মৃতের সংখ্যা ছিল ৭২। জুলাই মাসের শেষ দিন বিভাগে রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৩৩। মৃতের সংখ্যা ছিল ২১৩।

বিজ্ঞাপন

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনজুরুল মুরশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বিভাগে সংক্রমণের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। শুরুতে লোকজন স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কিছুটা মেনে চলত। এখন কেউ কিছু মেনে চলছেন না। তিনি বলেন, প্রশাসনের কিছুটা কঠোর হওয়া দরকার। আর যদি সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নিজের সুরক্ষার বিষয়ে নিজেকেই সচেতন হতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন