বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টিকাদান কক্ষের বাইরে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছিলেন সীমা বালা মণ্ডল। তিনি বলেন, প্রথম ডোজ নেওয়ার সময় হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি ব্যাপক ছিল। ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। আজ ভিড় নেই। পরিবেশ মোটামুটি ভালোই। পাশ থেকে মো. মনিরুজ্জামানও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

default-image

আগে যাঁরা গণটিকা কার্যক্রমে প্রথম ডোজ পেয়েছেন, শুধু তাঁদেরই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ডোজের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তারপরও কেন্দ্রে কেন্দ্রে অনেক এসেছিলেন টিকার প্রথম ডোজ পাওয়ার জন্য। এমনই একজন বাগমারা আবদুর রহিম সড়কের পারুল বেগম (৫৯)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আগেরবার এখানে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাইনি। তখন এখানকার লোকজন বলেছিল, পরের মাসে আবার যখন গণটিকা দেবে, তখন আসতে। কাল গণটিকা নিয়ে মাইকিং হয়েছে। তাই আজ আসলাম। এখন আবার তো ফিরে যেতে হচ্ছে।’

খুলনার সরকারি বিএল কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিংকু সরকারও টিকার বিষয়ে খোঁজ নিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খুলছে, অথচ টিকা নিতে পারিনি। গত মাসের ১৫ তারিখ নিবন্ধন করেছি, তবে টিকা পাইনি। আমার পরে বন্ধুরা অনেকে নিবন্ধন করে টিকা পেয়েছে। গণটিকা কেন্দ্রে এসে দেখলাম, কোনো ব্যবস্থা হয় কি না। কিন্তু হতাশা কাটল না।’

ওই কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী গাজী আবদুল আল নোমান বলেন, ‘এবার আর কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। তারপরও অনেকে দুই-চার মিনিট বসে থাকতেই অধৈর্য হচ্ছেন। টিকা কার্ড জমা নেওয়ার পর আমরা তা খাতায় এন্ট্রি করে রাখছি। সবাই টিকা কার্ড নিয়েই আসছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত ১২৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম ডোজ নিতে অনেকে আসছেন, আমরা তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছি।’

default-image

দুপুর ১২টার দিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া নবারুণ সংসদ ক্লাব কেন্দ্রে দেখা যায়, সেখানে টিকাদানকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা টিকার ডোজের হিসাব মেলাচ্ছেন। টিকা নেওয়ার জন্য কেউ তখন নেই। তালিকা দেখে স্বেচ্ছাসেবকেরা অনেককে কেন্দ্রে আসার জন্য ফোন করছেন। ১২টার মধ্যে ওই কেন্দ্রে ১৭০ জনের মতো মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবক অনামিকা দাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে এসেছিলেন টিকার প্রথম ডোজ পাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে। তাঁদেরকে আমরা বুঝিয়ে বলেছি। আর প্রথম ডোজের সময় দেওয়া টিকা কার্ড সঙ্গে নিয়েই প্রায় প্রত্যেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে এসেছেন। বয়স্ক ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

default-image

কেউ টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে কী করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একজন ছিলেন যিনি টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলেছিলেন। আইডি কার্ড, ফোন নম্বর মিলিয়ে তাঁকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলার ৯টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় ২১৪টি বুথে এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি করে মোট ৯৩টি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বুথে ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন