বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ময়ূর নদসহ নগরের ২২ খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের প্রভাব ছিল বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। উচ্ছেদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার তা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলন খুলনা নগরে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার জন্য ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো মধুমতী নদী থেকে খুলনা নগরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের সঙ্গে যাঁরা জড়িত আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে; ময়ূর নদ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; ময়ূর নদকে ঘিরে মিষ্টিপানির আধার গড়ে তুলতে হবে; নদের পানির বায়োলজিক্যাল স্ট্যাটাস নিরীক্ষণ করে পানিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে; নদের পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে; বর্তমানে খুলনা নগরের ৬০ শতাংশ পানি বিভিন্নভাবে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে তোলা হচ্ছে, এ পানি বিভিন্নভাবে অপচয় করা হচ্ছে, অপচয় কমিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি শুধু পানের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে।

অন্যান্য দাবিগুলো হলো পানির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত ব্যবসায়িক ও ভবন নির্মাণের কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে; বহুতল ভবনে ব্যবহৃত উৎপাদক নলকূপের ওপর বেশি হারে কর নির্ধারণ করতে হবে; পানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য ওয়াটার রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে হবে; সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে; খাওয়ার পানি ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের জন্য আলাদা পানির লাইন করতে হবে, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ। তিনি বলেন, নগরের ১৫ লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এ সমস্যা ভয়ানক রূপ ধারণ করে। বৃষ্টি দেরিতে হলে সমস্যা দীর্ঘায়িত হয়। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন এবং পরবর্তী সময়ে খুলনা ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হলেও নগরবাসী পানির সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে মধুমতী নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে নগরবাসীকে সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়ে অনেক আশাবাদ প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে দেখা গেল, ওই প্রকল্প নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তারা নগরবাসীকে লবণাক্ত, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিচ্ছে।

সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, ওই প্রকল্পের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। কিন্তু সেই লক্ষ্য তারা অর্জনও করতে পারেনি। বর্তমানে পানির সমস্যা মেটাতে সামর্থ্যবান নগরবাসী নিজেরা নিজেদের উদ্যোগে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে নিচ্ছেন। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পানির স্তর কোথাও কোথাও ২৫ থেকে ৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া রোধ করতে প্রয়োজন পানির রিচার্জিং (পুনর্ভরণ) ব্যবস্থা বজায় রাখা। বৃষ্টি হলেই রিচার্জিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ জন্য প্রয়োজন উপরিভাগের যথেষ্ট জলাধার সংরক্ষণ করা। দুঃখজনকভাবে খুলনা শহরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক মালিকানার পুকুরগুলোর মধ্যে হাতে গোনা মাত্র দু-একটি টিকে আছে। এ পরিস্থিতিতে ময়ূর নদকে টিকিয়ে রেখে মিষ্টিপানির আধার গড়ে তোলা প্রয়োজন। শোনা যাচ্ছে, নদটি খনন করা হবে; কিন্তু কবে, কোথায়, কীভাবে, কোন কর্তৃপক্ষ খননকাজ বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে, তা সবার কাছেই এখনো অস্পষ্ট।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি কুদরত-ই-খুদা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক অজন্তা হালদার, নারীনেত্রী মেরিনা যুথী, সাংস্কৃতিককর্মী শরীফুল ইসলাম, নাগরিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন