বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা জেলায় একমাত্র এই জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা বরাদ্দ থাকে। জেলায় বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তরা এই হাসপাতালে আসেন। এ ছাড়া আশপাশের জেলার আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এখানে আসেন।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে তেমন কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই। একবার সংক্রমিত হলে বাঁচার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। তবে জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে, যা রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগে শরীরে প্রয়োগ করতে পারলে মৃত্যু এড়ানো যায়। কুকুর বা প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হলে ক্ষতের তীব্রতা ও আধিক্যের ওপর ভিত্তি করে মোটামুটি দুই ধরনের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়। আঁচড় বা হালকা ক্ষত আছে কিন্তু রক্তক্ষরণ নেই এমন অবস্থায় এআরভি (অ্যান্টি–র‍্যাবিস ভ্যাকসিন) টিকা দিলে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। আর ক্ষত ও রক্তক্ষরণ একসঙ্গে থাকলে এআরভির পাশাপাশি আরআইজি (র‍্যাবিস ইমোনো গ্লোবিন) টিকাও দিতে হয়; আরআইজি না দিলে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালে এআরভি সরবরাহ আছে; তবে সেই সরবরাহ মাঝে মাঝে চাহিদার তুলনায় কম থাকে। এদিকে আরআইজি টিকা ২০১৬ সালের পর থেকে আর সরবরাহ নেই।

হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ২৮৭ জন কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি প্রভৃতি উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এই সময়ে শুধু কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ২ হাজার ৪৫ জন।

* খুলনা জেনারেল হাসপাতালে এআরভি সরবরাহ আছে; তবে সেই সরবরাহ মাঝে মাঝে চাহিদার তুলনায় কম থাকে। * আরআইজি টিকা ২০১৬ সালের পর থেকে আর সরবরাহ নেই।

চলতি জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই হাসপাতাল থেকে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৯৬৫ ডোজ প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। আর শুধু সেপ্টেম্বরেই চারজনকে আরআইজি প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে দু-তিনজনকে আরআইজি প্রতিষেধক দেওয়া লাগে। তাঁদের সবাইকে বাইরে থেকে ওই টিকা কিনতে হয়।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ৪ হাজার এআরভি ভায়াল প্রতিষেধক সরবরাহ করা হয়েছে। একেকটি ভায়াল থেকে ৪ জনকে টিকা দেওয়া যায়।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনার কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক দেওয়া হয় না। এ ছাড়া আরইজির সরবরাহ দীর্ঘদিন বন্ধ আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন