বিজ্ঞাপন
এখন নতুন ও পুরোনো দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্টের ট্যাংক সব সময় ভর্তি রাখতে পারলে অক্সিজেন নিয়ে ভাবনা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন হাসপাতাল–সংশ্লিষ্টরা।

স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের খুলনা অঞ্চলের ডিপো ইনচার্জ সজীব রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা ছিল। তবে হঠাৎ করে অক্সিজেনের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। বুধবার রাতে আমরা ট্যাংকে তরল অক্সিজেন ভরতে পেরেছি। তবে কিছুটা কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যে আমরা সেই ত্রুটি সারিয়ে ফেলতে পারব। যেভাবেই হোক আজকের মধ্যে আমরা প্ল্যান্টটি চালু করব।’

নতুন এই প্ল্যান্ট চালু হলে হাসপাতালে সিলিন্ডার অক্সিজেনের চাহিদা কমবে। এর ফলে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিপর্যায়ে সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ করা আগের চেয়ে সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগে থেকেই একটি লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট ছিল। মূলত অস্ত্রোপচার কক্ষের রোগীদের জন্য সেখান থেকে অক্সিজেন ব্যবহার করা হতো। পরে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্ল্যান্টের সক্ষমতা বাড়িয়ে এখান থেকেই করোনা রোগীদের কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি সিলিন্ডার অক্সিজেন ব্যবহার করে অক্সিজেনের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছিল তারা।

তবে এখন নতুন ও পুরোনো দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্টের ট্যাংক সব সময় ভর্তি রাখতে পারলে অক্সিজেন নিয়ে ভাবনা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন হাসপাতাল–সংশ্লিষ্টরা।

তাঁরা সবুজ সংকেত দিলেই রোগীদের কাছে অক্সিজেন সরবরাহ চালু হবে। ফলে এখন থেকে ১০ হাজার কিলোলিটারের দুটি প্ল্যান্ট থেকে কেন্দ্রীয় লাইনের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
মো. রবিউল হাসান, পরিচালক, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. রবিউল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, স্পেকট্রা থেকে ট্যাংকে তরল অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লাইন টানাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া ঠিকঠাক আছে। কোম্পানির লোকজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তাঁরা সবুজ সংকেত দিলেই রোগীদের কাছে অক্সিজেন সরবরাহ চালু হবে। ফলে এখন থেকে ১০ হাজার কিলোলিটারের দুটি প্ল্যান্ট থেকে কেন্দ্রীয় লাইনের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নতুন এই সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হওয়ায় হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া অনেকটাই গতি পাবে বলে মনে করছেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং করোনা চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রথম দফায় এই হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হতো। সে সময় চাহিদার বিপরীতে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি ছিল। এ কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালুর নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এরপর গত বছর ঢাকার বসুন্ধরার অস্থায়ী হাসপাতাল থেকে স্পেকট্রা কোম্পানির ট্যাংকটি স্থানান্তর করে খুলনায় আনা হয়। তবে খুলনায় আনার পর ওই ট্যাংক কয়েক মাস বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্যাংকটি স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন মেলে।

এ বছরের জুনের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতালে ট্যাংকটি বসানো হয়। তারপর করোনা হাসপাতালের একটি কক্ষ ভ্যাকুয়াম রুম হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। এরপর চলতি মাসের ২ তারিখ তরল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্পেকট্রার চুক্তি হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন