করোনাকালে খুলনা জেলা পরিষদে টেন্ডার ছাড়া ৫০ লাখ টাকার সুরক্ষাসামগ্রী (হ্যান্ড ওয়াশ, স্যানিটাইজার ও মাস্ক) ক্রয়, টেন্ডার ছাড়াই উন্নয়নমূলক কাজ করা, পরিষদের তিনতলা কোয়ার্টার ইজারা নিয়ে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তার অবৈধভাবে বিদেশি পাখি বাণিজ্যিকভাবে পালনসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ দপ্তর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দরপত্র ছাড়াই জেলা পরিষদ ভবন ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিক পাখি পালন ও খেয়াঘাট ইজারা না দিয়ে টোল আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করা হয়।

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে আছাদুজ্জামান দাবি করেন, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জেলা পরিষদের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় সপরিবারে বসবাস করেন। জরুরি ভিত্তিতে জেলা পরিষদের কিছু কাজ টেন্ডার ছাড়াই করা হয়েছে। জেলা পরিষদের আওতায় থাকা খেয়াঘাট বিধি মেনে ইজারা দেওয়া হয়। করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়ের সত্যতা রয়েছে এবং নয়টি ডাকবাংলো মেরামতের কাজ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ করার বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুদককে জানান, আগের ধারাবাহিকতায় তিনি ওই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা পরিষদ থেকে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। দুদক কর্মকর্তারা রূপসা এলাকায় গিয়ে দেখতে পান, জেলা পরিষদের এক হাজার আসনের মিলনায়তন নির্মাণকাজ চলছে।

দুদকের খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা জেলা পরিষদের সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়, অডিটোরিয়াম টেন্ডার, ডাকবাংলো মেরামত, খেয়াঘাটের ইজারা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের পাখি পালন এবং সরকারি ভবনে বসবাস–সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান প্রসঙ্গে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

জানতে চাইলে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুদকের একটি দল কিছু বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। পর্যালোচনার জন্য তারা কিছু কাগজপত্র নিয়ে গেছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন