খুলনা বিভাগে বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা) করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৭৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯৮ হাজার ছাড়াল। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ২৩ শতাংশের বেশি।

আজ শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে গতকাল বিভাগে করোনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৮১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। আগের দিনের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। এ সময় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শনাক্তের হার ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট মেশিন এবং র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন—এই তিন প্রক্রিয়ায় মোট ৩ হাজার ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ২১টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশ। কুষ্টিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুক্রবার বাসা ও হাসপাতাল মিলিয়ে বিভাগের ১০ জেলায় করোনা রোগী রয়েছেন ১৯ হাজার ৫১০ জন। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ২৬২ জন। অন্যরা বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নতুন করে করোনা শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ খুলনায় ১৭৬ জন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ১১৬, যশোরে ১৩৫, মাগুরায় ২৪, সাতক্ষীরায় ৬১, বাগেরহাটে ২৯, চুয়াডাঙ্গায় ৫৯, ঝিনাইদহে ৪৭, মেহেরপুরে ৭৬ জন ও নড়াইলে ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিভাগে এখন পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৪৫৪ জনের। সংখ্যা বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। এখানে ২৪ হাজার ৬৯০ জনের করোনা হয়েছে। যশোরে ১৯ হাজার ৫৬৭ জনের, কুষ্টিয়ায় ১৫ হাজার ৬১৮ জনের, বাগেরহাটে ৬ হাজার ৩২৫ জনের, চুয়াডাঙ্গায় ৬ হাজার ২৬৭ জনের, ঝিনাইদহে ৮ হাজার ৯৩ জনের, সাতক্ষীরায় ৫ হাজার ৯৭৯ জনের, নড়াইলে ৪ হাজার ৩৬৭ জনের, মেহেরপুরে ৪ হাজার ১৪৯ জনের এবং মাগুরায় ৩ হাজার ৩৯৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বিভাগে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৫৪ জন। শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার প্রায় ৭৮ শতাংশ।

বিভাগে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৫৯০। মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৬৩। করোনায় মারা যাওয়া সর্বশেষ ৩৬ জনের মধ্যে কুষ্টিয়ায় ১০ জন, খুলনায় ৯ জন, ঝিনাইদহে ৬ জন, যশোরে ৫ জন, মেহেরপুরে ৪ জন, বাগেরহাটে ও নড়াইলে একজন করে রয়েছেন।

বিভাগের মধ্যে খুলনায় করোনায় সর্বোচ্চ ৬৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু কুষ্টিয়ায় ৬০৮ জনের। এ ছাড়া যশোরে ৩৭৯, ঝিনাইদহে ২২৩, চুয়াডাঙ্গায় ১৭২, মেহেরপুরে ১৫৪, বাগেরহাটে ১৩০, নড়াইলে ৯৭, সাতক্ষীরায় ৮৫ ও মাগুরায় ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।