default-image

‘এই মর্মে শপথ করছি যে আমরা খেজুরগুড়ে কোনো প্রকার ভেজাল মেশাব না, আমরা কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য গুড়ে ব্যবহার করব না। সবাইকে এ কাজ করতে নিষেধ করব।’ এভাবেই যশোরের কেশবপুরে উপজেলার খেজুর রস আহরণকারী গাছিরা সোমবার শপথ নিয়েছেন।

খেজুরের রসের মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারের এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় গাছিদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তাঁদের এই শপথ করানো হয়। অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘কেনারহাট’ ও শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে কৃষি কমপ্লেক্সে আয়োজিত সাতবাড়িয়া ও ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের ৭০ জন গাছি এতে অংশ নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হোসাইন সওকত, যশোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যশোরের স্থানীয় সরকারের জেলা ফ্যাসিলিটেটর আবদুল হালিম, কেশবপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আনিছুর রহমান, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুদ্দীন ও কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্ত্তী।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা খেজুরগাছের রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গাছিদের প্রশিক্ষণ দেন। সেখানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যথাযথভাবে খেজুর রস আরোহণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
‘কেনারহাট’–এর পক্ষ থেকে তরিকুল ইসলাম বলেন, গাছিদের কাছ থেকে তাঁরা ন্যায্যমূল্যে গুড় কিনে নেবেন। ২০১৮ সাল থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি গুড় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করেছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান।

গুড় বিপণনের উদ্যোক্তারা জানান, তাঁরা এ পর্যন্ত ২০০ গাছিকে নিরাপদ রস ও বিশুদ্ধ খেজুরগুড় উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁরা তিনজন দরিদ্র গাছির সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গাছিদের উৎপাদিত গুড় সরাসরি কিনতে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মির্জানগর গ্রামের গাছি খাদেম আলী বলেন, দিন দিন খেজুরগাছ কমে যাচ্ছে। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ, খেজুরগাছ বেশি দামে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে চলে যাচ্ছে।

৭০ বছর বয়সী ভালুকঘর গ্রামের জমির মোড়ল বলেন, তিনি ৮০টি গাছ কাটেন। রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম হয়। যে পরিমাণ অর্থ আসে, তাতে খুব বেশি লাভ হয় না। ফলে পরবর্তী প্রজন্ম এই পেশায় আসছে না। তবে তিনি আশা করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিলে হয়তো গাছিরা উৎসাহিত হবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0