বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গোদাগাড়ী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ারের মা আমেনা বেগম ওরফে মুক্তি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর প্রথম স্বামী শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার। মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় আমেনা বেগমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন শহিদুল। পরে মতিউর রহমান নামে গোদাগাড়ীর এক মাদক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন আমেনা। মতি র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এরপর গোদাগাড়ী পৌর যুবলীগের নেতা নুরুজ্জামান ওরফে কাজলকে বিয়ে করেন আমেনা। কিছুদিন আগে একটি মাদক মামলায় নুরুজ্জামান, আমেনা ও তাঁর ছেলে শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সম্প্রতি তাঁরা জামিনে বের হন। তারপর আবার র‌্যাবের কাছে মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেন শাহরিয়ার।

র‌্যাব জানায়, ফেনসিডিল বিক্রির জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মারুফ হোসেন খানের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল বিজয়নগর গ্রামে অভিযান যায়। তখন চারজন দুটি বস্তা ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। র‌্যাব সদস্যরা তাঁদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে পরশ তাঁর হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে কনস্টেবল মো. রোকনুজ্জামানের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তা প্রতিহত করতে গেলে রোকনুজ্জামানের একটি আঙুল কেটে জখম হয়। আর শাহরিয়ার তাঁর কোমর থেকে একটি খেলনা পিস্তল বের করে এক র‌্যাব সদস্যকে ভয় দেখান। এভাবে তাঁরা ভয় দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও র‌্যাব সদস্যরা তিনজনকে ধরে ফেলেন। একজন পালিয়ে যান। আহত র‌্যাব সদস্য রোকনুজ্জামান গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় র‌্যাবে কর্মরত উপপরিদর্শক ত্রিনিবাস মিস্ত্রি বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় চারজনের নামে একটি মামলা করেছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদক রাখা, সরকারি কাজে বাধা দান, র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকেও গোদাগাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মারুফ হোসেন খান বলেন, খেলনা পিস্তলটি হাতে না নিলে বোঝার উপায় নেই। এটি দিয়েই মাদক ব্যবসায়ী হয়তো মানুষকে জিম্মি করেছে। পিস্তলটি হাতে নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন সেটি খেলনা পিস্তল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন