বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনারটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অবস্থা এমন ছিল যে এর একটি পিলার দড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা ছিল। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকলেও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সেটি মেরামত করেননি। শনিবার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, জান্নাতি বিকেলের দিকে আরও কয়েকটি শিশুর সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে খেলা করছিল। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে হঠাৎ শহীদ মিনারের একটি পিলার জান্নাতির ওপর পড়ে যায়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। উপস্থিত লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জান্নাতির মৃত্যুর খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শতাধিক গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা আফসানা চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহায়তা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত জান্নাতির লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিশুটিকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। শিশুটি বিশেষ করে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

এ বিষয়ে সেকান্দরদী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিদ্যালয়টির শহীদ মিনারের ঝুঁকিপূর্ণ পিলার ধসে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

জানতে চাইলে ইউএনও ফারহানা আফসানা চৌধুরী জানান, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিহত শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন