default-image

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। সংযোগ সড়কের একটি অংশে সিমেন্টের তৈরি বোল্ডার ধসে পড়ে বালু বের হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্র বলছে, তিন দফা বন্যায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পানির স্রোত এসে সংযোগ সড়কে ধাক্কা দেওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। এই ভাঙন রোধে পাউবোর কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বালুর বস্তা ফেলে সংস্কারকাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাউবো রংপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, মূল সেতুর তলদেশে চর জেগে ওঠায় সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। ইতিমধ্যে নদীর উজানে শংকরদহ, ইছলি, ইশরকুল এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার বসতভিটা, আবাদি জমি বিলীন হয়েছে নদীতে। এই পথে পানির প্রবল স্রোত সেতুর সংযোগ সড়কে গিয়ে আঘাত হানছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শেখ হাসিনা সেতুর প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর প্রান্তে সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত একটি সেতুর এক পাশ ধসে পড়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে সিমেন্টের তৈরি শতাধিক বোল্ডার ধসে সড়কের নিচের বালু বের হয়ে গেছে। ওই স্থান রক্ষার জন্য দুই শতাধিক বালুর বস্তা সেখানে ফেলা হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, গত বছর জুন-জুলাই মাসে সেতু ও সংযোগ সড়ক রক্ষায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর পশ্চিমে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রামে মাটি, বালুর বস্তা ও সিমেন্টের ব্লক দিয়ে ৫০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেটি এ বছরের বন্যায় পুরোদমে নদীতে বিলীন হয়েছে।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী প্রথম আলোকে বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙছে। অনেক এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শংকরদহ এলাকা থেকে বিনবিনা এলাকা পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছিল গত বছর। কিন্তু তা করা হয়নি বলে নতুন এলাকা ভেঙে শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়কে গিয়ে পানির স্রোত আঘাত হানছে।

পাউবো রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়া রোধ করতে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীর উজানে চর ড্রেজিং করতে হবে। আর তা না হলে সেতুটি অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখানে স্থায়ী সিমেন্টের তৈরি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। চীনের সহযোগিতায় এই কাজটি করা হবে বলে দুদেশের নদী গবেষকদের নিয়ে আলোচনাও চলছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য লালমনিরহাটের পাটগ্রামে অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু (যা পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সেতু নামকরণ করা হয়) নির্মাণ করা হয়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্বেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারি ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল এ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন এলজিইডিকে হস্তান্তর করে। ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর উদ্বোধন করেন। ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুতে রয়েছে ১৬টি পিলার, ১৭টি স্প্যান, ৮৫টি গার্ডার। একই বরাদ্দে সেতুটি রক্ষার জন্য উভয় পাশে ১৩০০ মিটার নদীশাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0