বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পড়ে আছে দুটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় নগরে দুটি পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ কাজ বাস্তবায়ন করে। নগরের উত্তরে বেলতলায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং দক্ষিণ দিকে রূপাতলী এলাকায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শোধনাগার দুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৫ সালের জুনে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ওজোপাডিকো দুই বছরেও শোধনাগার দুটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়নি। ফলে শোধনাগার দুটি সময়মতো চালু করা যায়নি। ২০১৮ সালে শোধনাগার দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সেটি আর চালু করা যায়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেলতলা শোধনাগারটির মূল ফটকের সামনের অংশের প্রায় ৪০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পূর্ব পাশের বিশাল অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন এখন প্ল্যান্টের খুব কাছে চলে এসেছে। প্ল্যান্টে চলাচলের সড়কটির নিচের মাটি ধসে গেছে। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভেতরের হাউসে পানি জমে শেওলা পড়ে শুকিয়ে আছে। অন্য যন্ত্রপাতিগুলোও মরচে ধরে অকেজো হয়ে গেছে। একই অবস্থা রূপাতলী শোধনাগারটিরও।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, দুটি শোধনাগারেরই নির্মাণ ত্রুটি ছিল। একই সঙ্গে স্থান নির্বাচনেও ত্রুটি ছিল।

বাস্তবায়ন সংস্থা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কাছে প্ল্যান্ট দুটি বুঝিয়ে দিয়েছি। কিছু মেরামত আর সঠিক ব্যবস্থাপনায় চালু করা সম্ভব।’

দুটি পানি শোধনাগারের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পানি শাখার সহকারী তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুটি পানি শোধনাগার চালুর জন্য সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া এ দুটি শোধনাগার চালু করা অসম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চেয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মিলনায়তনের কাজ শেষ হয়নি

একইভাবে অনিশ্চিত বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন প্রকল্পটিও। বরিশাল শহীদ মিনারের পাশেই বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি। ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল বিসিসির। কিন্তু আধুনিক সুবিধাসংবলিত পাঁচতলা বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের নির্মাণকাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। কাজ শুরুর পর দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে ২৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পার হলেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর প্রায় চার বছর ধরে কাজ বন্ধ। মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ ও মোমেন সিকদার নামের দুটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়।

ঠিকাদার মোমেন সিকদার বলেন, ‘মূল ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জার কাজ বাকি। সেসব কাজ করাতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।’

মিলনায়তন নির্মাণে ধীরগতির কারণে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বরিশালের নাট্যসংগঠন শব্দাবলীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাট্যজন সৈয়দ দুলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথা ছিল মূল ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের ডেকে পরামর্শ করে এর ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের ডাকা হয়নি। অনেক দিন ধরে কাজ বন্ধ আছে। কবে নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে, তা–ও অনিশ্চিত।’

ফটক দুটির কাজও আটকে আছে

এই দুই প্রকল্পের মতোই আরেকটি বড় প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটিও শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। মাঝপথে কাজ থমকে আছে এখনো।

বরিশাল মহানগরের দুই প্রান্তে প্রবেশমুখে সিটি গেট নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে আর শেষ হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মহানগরের দুই ফটক। দুটি ফটকের একটির মাত্র ৩৩ ভাগ এবং অন্যটির ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছিল।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০১৫ সালের ১১ জুন নগরের গড়িয়ারপাড় এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এলাকায় দুটি সিটি গেট নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গড়িয়ারপাড় এলাকার জন্য ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় ধরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতুসী ট্রেডার্সকে কাজ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তারা কাজ শুরুও করে। মাত্র ৩৩ ভাগ কাজ শেষ করে। এরপর আর কাজ এগোয়নি।

অন্যদিকে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে গেট নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৩৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়। একই সময়ে কার্যাদেশ হলেও কাজ শুরু করতে দেরি হয়। তবে এই ফটক নির্মাণের কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ফটক নির্মাণের নামে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কের অর্ধেক বন্ধ করে রাখায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

তবে সিটি করপোশরেশনের একটি সূত্র জানায়, দুটি ফটক নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ দরকার তা ওই সময় পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ না পাওয়ার কারণেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কাজ এগোয়নি।

প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মো. ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আর সিটি গেট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন