default-image

নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল বাজারে গণশৌচাগার দখল করে গুদাম স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের নামে যুবলীগের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। আবু তাহের ঘোড়াশাল পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আড়াই বছর ধরে ঘোড়াশাল বাজারের গুদারাঘাটের সামনের ওই গণশৌচাগারটি অবৈধভাবে দখল করে গুদাম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন যুবলীগের ওই নেতা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘোড়াশাল বাজারের ব্যবসায়ী ও কেনাকাটা করতে আসা লোকজনকে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াশাল বাজারের গুদারাঘাটে অবস্থিত গণশৌচাগারটি প্রতিদিন বাজারে আসা হাজারো মানুষ ব্যবহার করতেন। একপর্যায়ে গণশৌচাগারটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ৪ বছর আগে প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় বাজারের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সেটি ভেঙে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘোড়াশাল পৌরসভা একটি উন্নতমানের গণশৌচাগার নির্মাণ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে তা স্থানীয় বাজার কমিটির কাছে হস্তান্তর করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পরে বাজার কমিটির সুপারিশে গণশৌচাগারটির দায়িত্ব রাজেন নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর আগে ওই গণশৌচাগারটি জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে নেন আবু তাহের।

একসময় এখানে আমার একটি দোকান ছিল। শৌচাগারটি নির্মাণের সময় আমার দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে গণশৌচাগারটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় তা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছিল না। পরে আমি এটি দখলে নিয়ে গুদাম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছি।
আবু তাহের, গণশৌচাগার দখলে নেওয়া যুবলীগ নেতা

গণশৌচাগারটি ইজারা নেওয়া রাজেন বলেন, পুরোনো এই গণশৌচাগারটি ব্যবহারে অনুপযোগী অবস্থায় ছিল। বাজারের ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে প্রায় ৪ বছর আগে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অর্থায়নে আধুনিক একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করে ঘোড়াশাল পৌরসভা। কিন্তু আবু তাহের জোরপূর্বক শৌচাগারটি দখল করে গুদাম বানিয়ে তার ভগ্নিপতির কাছে ভাড়া দেন। বিষয়টি একাধিকবার বাজার কমিটি ও ঘোড়াশাল পৌরসভাকে জানিয়েও কাজ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘোড়াশাল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রায় আড়াই বছর আগে আবু তাহের এই গণশৌচাগারটি দখল করে নেন। তখন তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন, জেলা পরিষদ থেকে নাকি গণশৌচাগারটি লিজ নিয়েছেন।’

default-image

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগের নেতা আবু তাহের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় এখানে আমার একটি দোকান ছিল। শৌচাগারটি নির্মাণের সময় আমার দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে গণশৌচাগারটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় তা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছিল না। পরে আমি এটি দখলে নিয়ে গুদাম বানিয়ে ভাড়া দিয়েছি।’

ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র শরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণশৌচাগারটি অবৈধভাবে দখল করে নেওয়ার বিষয়টি আজই শুনলাম। এটি অবৈধ দখলমুক্ত করতে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন