বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিন দেখা গেছে, আজ সকাল থেকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়ান। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে টিকা প্রদান করা হলেও গতকালের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিষদ প্রাঙ্গণে অস্থায়ী শামিয়ানা টাঙিয়ে টিকার বুথ তৈরি করা হয়। ১৪টি বুথে স্বাস্থ্য সহকারীরা নারীদের টিকা দিচ্ছেন। পুরুষদের ৬টি বুথ থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

শিবু মার্কেট এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন রুমি আক্তার। তিনি টিকা নিতে কারখানা থেকে দুই ঘণ্টার ছুটি নিয়ে এসে সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত তিনি টিকা দিতে পারেননি। কখন টিকা দিতে পারবেন, তা জানেন না। প্রতিদিন তো আর ছুটি পাবেন না। তাই টিকা না নিয়ে ফিরবেন না বলে জানান তিনি।

দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার এবলুম পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করেন শাবানা বেগম। জানান, সকাল নয়টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দুপুর হয়ে গেলেও টিকা নিতে পারেননি।

পাগলা রেলস্টেশন এলাকা থেকে টিকা নিতে এসেছেন গৃহিণী শান্তা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পাইয়া গেছি। যদি সরকার প্রথম ডোজ টিকা বন্ধ করে দেয়, তাহলে তো টিকা নিতে পারমু না। তাই ফজরের নামাজের পর থেকে টিকা নিতে চইল্যা আইছি। বিশাল লাইন ঠেলে টিকা নিতে পারলাম।’
পোশাকশ্রমিক রাসেল মিয়া বলেন, ‘টিকা নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। কিন্তু এসএমএস আসেনি। তাই টিকা নিইনি। ২৬ ফেব্রুয়ারির পর নাকি টিকা নিতে পারব না, তাই টিকা নিতে আসছি। একসঙ্গে টিকা নিতে আসায় লোকজনের অনেক ভিড় হচ্ছে। টিকার কার্ড ছাড়া কিছু হবে না, এই ভয়ও কাজ করছে সবার ভেতরে।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনীক বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষকে সিনোভ্যাকের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। গতকালের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার পরও ২০টি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। টিকা প্রদানে কাজ করছেন ৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারী।

সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নিতে আসা লোকজনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য র‍্যাব ও পুলিশ রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে সবাই টিকা নিতে পারেন, এ কারণে বুথ বাড়ানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন