বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অথচ সেই গবেষণা কেন্দ্রটিই কিনা এখন অবহেলার শিকার। শুরু থেকেই লেগে আছে বিজ্ঞানী–সংকট। আর এখন এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। কেন্দ্রের পরীক্ষাগারের (ল্যাবরেটরি) অবস্থাও করুণ।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পদের সংখ্যা ছিল ১৯টি। তবে পুরো জনবল নিয়ে

কখনই চলেনি এর গবেষণা কার্যক্রম। সর্বোচ্চ ১৪ জন বিজ্ঞানী একসঙ্গে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছেন এ কেন্দ্রে। বেশির ভাগ সময় ছয়-সাতজন বিজ্ঞানী নিয়েই কাজ চালানো হয়েছে। এখন কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পদের সংখ্যা কমিয়ে ১০ জন করা হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একজন (সিএসও), প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দুজন (পিএসও), ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দুজন (এসএসও) ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পাঁচজন। তবে গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাত্র তিনজন বিজ্ঞানী নিয়েই চলছে কার্যক্রম। ফলে কোনো ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো গবেষণা হচ্ছে না।

default-image

মোখলেসুর রহমান আরও বলেন, ‘গবেষণামূলক কাজ দিয়ে বিবেচনা করতে গেলে আমি অর্ধেক। প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে মাঠে গবেষণামূলক কাজের সুযোগ কম সিএসওর। সেই অর্থে আড়াইজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দিয়ে চলছে কেন্দ্র। মূলত গবেষণা মাঠে কাজ করার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন বিজ্ঞানী। আমের রোগবালাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অথচ এ ক্ষেত্রে কোনো বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নেই। নতুন কোনো রোগবালাই দেখা দিলে এ নিয়ে সমাধান দেওয়া সম্ভব হবে না। জাত উন্নয়নের জন্য সংকরায়ন হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। কিন্তু আমের সংকরায়নে বিশেষজ্ঞ কোনো বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এই মুহূর্তে বারিতে নেই। একমাত্র ছিলেন এই কেন্দ্রের পিএসও জমির উদ্দিন। তিনি গত ডিসেম্বর মাসে অবসর প্রস্তুতিকালীন (পিআরএল) ছুটিতে গেছেন।’

গবেষণা কেন্দ্রে রয়েছে উদ্যানতাত্ত্বিক, রোগতাত্ত্বিক ও কীটতাত্ত্বিক পরীক্ষাগার। এ তিনটি পরীক্ষাগারের অবস্থা এখন ভালো নয়। যন্ত্রপাতি সব পুরোনো আমলের। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পরীক্ষা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি পূর্ণাঙ্গ কোন গবেষণা কেন্দ্র নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, আম নিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থাৎ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হোক। এ নিয়ে আমি কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বেসরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছি।’

জনবলসংকট নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি

গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক দেবাশিস সরকার পবলেন, ‘বিজ্ঞানী–সংকট সম্পর্কে আমি অবহিত। তবে এই মুহূর্তে সংকট নিরসনে করার কিছু নেই। সামনে বিজ্ঞানী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তখন এ কেন্দ্রে বিজ্ঞানী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন