নিহত দুজন হলেন মো. জিসান (১৯) ও ফাহিম (১৭)। জিসান মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর চরমসুরা এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে। ফাহিম একই এলাকার সরবতুল্লার ছেলে। জিসান এবার স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন। ফাহিম দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তর চরমসুরা গ্রামের মানিক মিয়ার জামাতা লিখন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে মানিক মিয়ার ছেলে জিসান তাঁর দুই বন্ধু ফাহিম ও জাহিদকে নিয়ে গতকাল রাতে ঘুরতে বেন হন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই তিন বন্ধু টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পুরাবাজারের কাছাকাছি আসেন। সেখানে নির্মাণাধীন সেতুর নিচে ব্যক্তিগত গাড়িটি পড়ে যায়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. তোফাজ্জল হোসেন আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে জানান, ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ওই তিনজনকে মুন্সিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে জিসান ও ফাহিম আনার আগেই মারা যান। তবে জাহিদ সুস্থ রয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত জাহিদ বলে, রাতে তারা গাড়ি নিয়ে বের হয়। জিসান গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পুরাবাজারের কাছাকাছি এলে নির্মাণাধীন সেতুর ওপর উঠিয়ে দেন। নির্মাণাধীন সেতুর কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। তারা ভেবেছিল, সেতুটির সচল আছে। কিন্তু গাড়ি পুরাখালে পড়ে যায়। এরপর তার আর কিছু মনে নেই।

নিহত জিসানের বোন রূপা আক্তার বলেন, জিসান খুব ভালো ড্রাইভিং করতেন। ছয় মাসের কোর্স করা ছিল। ঢাকার শহরে প্রায়ই গাড়ি চালাতেন। কখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সেতুর সামনে যদি সতর্কতামূলক কিছু থাকত, তবে গাড়ি নিয়ে তাঁরা খাদে পড়তেন না।

জিসানের মামা চান মিঞা বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে দুটি তাজা প্রাণ চলে গেল। এর আগেও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় ওই সেতুতে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসীর সহায়তায় তিনজনকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন