বিজ্ঞাপন

আটকা পড়া গরুবোঝাই ট্রাক চালকদের অভিযোগ, জরুরি ভিত্তিতে গরুবহনকারী ট্রাক ফেরি পারাপারের নির্দেশনা থাকলেও ঘাট কর্তৃপক্ষ একটি ফেরিতে দু-তিনটি গরুর ট্রাক ছাড়া অন্য গাড়ি লোড নিচ্ছে। ভিআইডি সেবায় ছোট ও ব্যক্তিগত গাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুণের বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। এ কারণে চাহিদা অনুসারে যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফেরি পারাপারে কোনো ভিআইপি সেবাও দেওয়া হচ্ছে না।

আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের সংযোগ সড়ক ও টার্মিনালে ভরা যানবাহন। শিমুলিয়াগামী প্রতিটি ফেরিতে দুই থেকে তিনটি গরুবোঝাই ট্রাক লোড নিচ্ছে। অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ও গরুবোঝাই ট্রাকগুলো টার্মিনালের আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে। ঘাটে রোদের তাপ ও ভ্যাপসা গরমে ট্রাকের ভেতরেই হাঁসফাঁস করছে গরুগুলো। ব্যবসায়ীরা গরুর মাথায় ও শরীরে পানি দিচ্ছে। অনেকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকায় ট্রাকে থাকা কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

default-image

বরগুনা থেকে ট্রাকে ১২টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মিরাজ হাওলাদার (৫০) বলেন, ‘গ্রাম থিকা দেশি গরু কিনেছি। বেশি দামে বিক্রির আশায় ঢাকা যাচ্ছি। ঘাটে এমন বিপদ জানলে এ ব্যবসা এবার করতাম না। এহনে সময়মতো যেতে না পারলে ভালো দাম তো পামুই না উল্টা গরুগুলি বাঁচানো গেলে হয়।’

আরেক ব্যবসায়ী ইছাক মিয়া বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে রোইদে গরুগুলি পুইড়া যাইতাছে। সকাল থিকা ৮-১০ বার গরুর মাথায় পানি ঢাইলা বাঁচাইয়া রাখছি। ঘাটের ভাইগো অনেকবার অনুরোধ করেছি যে আমাগো পার কইরা দেন। কিন্তু তারা আমাগো কোনো কথাই শুনতাছে না। তারা খালি ছোট গাড়ি আর ভিআইপিদের পার করা নিয়া ব্যস্ত।’

বরিশাল থেকে আসা আরেক গরু ব্যবসায়ী কাইয়ুম শরীফ বলেন, ‘খুব কষ্টে আছি। গরুগুলি গরমে হাঁপাইতাছে। বারবার হেলে পড়তাছে। এমন করে গরু বাঁচানো যাইবে না। আজই বিকাল হইলে দুদিন ধরে ঘাটে। গরুর খাওনও শেষ। আমাগো এবার মরার কায়দা হইছে।’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ চলে আসায় ঘাটে গরুবোঝাই ট্রাকের প্রচুর চাপ আছে। নৌপথে চলাচলরত ১৩টি ফেরিতে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি ঘাটে আসতে সময় লাগছে। তাই কিছু গাড়িকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআাই) জামালউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় টার্মিনালে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছেই। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আটকা। এর মধ্যে দুই শতাধিক আছে গরুবোঝাই ট্রাক। ট্রাকগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী ঘাটের দিকে পাঠানো হচ্ছে। তবে স্রোতের কারণে ফেরিতে বেশি লোড নেওয়া যাচ্ছে না। তাই ট্রাকের সংখ্যা কমছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন