default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল চা-বাগানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মনা পাশী (২০) নামের এক চা-শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মনা বাগানের বড় লাইনের বাসিন্দা শংকর পাশীর ছেলে। এ ঘটনায় অনরজিত পানিকা (২৫) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ, নিহত ব্যক্তির স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, মনাদের কয়েকটি গরু বাগানের ৩ নম্বর সেকশন এলাকায় হাওরে চরানো ছিল। বিকেল পাঁচটার দিকে গরু আনতে তিনি সেখানে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত বাগানের পাহারাদার অনরজিত পানিকা (২৫) মনাকে ডেকে বলেন, তাঁদের গরু বাগানের চারা গাছ নষ্ট করে ফেলেছে। এ নিয়ে প্রথমে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অনরজিত হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মনাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। অনরজিত পালিয়ে যান। তাঁর বাড়ি বাগানের নতুন টিলা এলাকায়। মনার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অনরজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে খুঁজতে থাকেন। অনরজিতকে না পেয়ে তাঁরা তাঁর বাবা সুকুমার পানিকার ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, সুরতহালে নিহত মনার ঘাড় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপ দেখা গেছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদরে অবস্থিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ফুলতলা সীমান্তের চুঙ্গাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনরজিতকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন