বিজ্ঞাপন

গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত হাটের পাশের মহাসড়কে যানজট ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ। যানজটে আটকা পড়ার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় অসংখ্য মানুষকে। এমনকি রোগী বহনকারী অনেক যানবাহনও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকে।

হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও হাট কমিটির সদস্যরা জানান, করমজা হাটটি সাপ্তাহিক হাট হিসেবে প্রতি মঙ্গলবার বসে। সে হিসাবে ঈদুল আজহার আগে গতকালের হাটটিকেই শেষ হাট ধরে নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় জমে। আগামী মঙ্গলবার (২০ জুলাই) হাট বসলেও পশু খুব কম উঠবে। কারণ, ওই দিনের হাটে ঢাকাসহ দেশের দূরের ব্যাপারীরা কেউই আর আসবেন না।

এদিকে গতকালের হাটে দেখা যায়, অনেকেই মাস্ক পরে হাটে এলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে বেশির ভাগ লোকই মাস্ক খুলে রেখেছেন। হাটে থাকার সময় মাস্কবিহীন অবস্থায় তাঁরা একে অপরের গা ঘেঁষে চলাফেরা করেন। করোনার উচ্চ সংক্রমণের সময়ে বিষয়টিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, গরুর হাট বিধিনিষেধের বাইরে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁরা হাট বসানোর উদ্যোগ নেন। হাটে ৮ থেকে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়। ছিল স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

ফেরত যায় অর্ধেক গরু

গতকালের করমজা পশুহাটে প্রচুর গরু উঠলেও ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হয় কম। হাট কমিটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হাটে ওঠা গরুর অর্ধেকের বেশিই বিক্রেতারা ফেরত নিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় যেসব গরু বিক্রি হয়, সেগুলোর দামও ছিল বেশ কম।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা সাঁথিয়ার শহীদনগর গ্রামের রউফ আলী বলেন, ‘আজকের (মঙ্গলবার) হাটেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়ার কথা। কিন্তু হাটে বেচার লোক থাকলেও কেনার লোক নাই।’ রউফ বলেন, গত এক বছরে তিনি দুটি গরুর জন্য প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেন। অথচ হাটে এর আশপাশেও দাম বলেননি কেউ।

করমজা হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দূরের ব্যাপারীরা হাটে আসতে পারেননি। ক্রেতা কম থাকায় গরুর দামও ছিল কম। হাটের এ অবস্থায় শুধু গরু পালনকারীরাই নন, ইজারাদারদেরও লোকসান হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন