মধ্যনগর থানার পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কালাগড় গ্রামের সামনে নজরুলের বোরো খেত রয়েছে। শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে একই গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়ার ভাগনির ছেলে মিজানুর (৯) তিনটি গরু দিয়ে ওই খেতের আধা পাকা বোরো জমির ধান বিনষ্ট করে। নজরুলের ভাতিজা আতিক মিয়া (১০) ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মিজানুরকে মারধর করে। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সবুজ মিয়ার সঙ্গে নজরুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুলের নেতৃত্বে তিন-চারজন মিলে সবুজ মিয়ার ওপর হামলা চালান। এ সময় মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করলে সবুজের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকলে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সবুজকে স্থানীয় মহিষখলা বাজারে নিয়ে সাময়িক চিকিৎসা দেন তাঁর স্বজনেরা। পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে ওই দিন রাত ১১টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় সবুজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, এমন খবর পেয়ে সবুজের ওপর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এলাকার লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদর এলাকা থেকে রাত একটার দিকে নজরুল (৩০) ও নূর জামালকে (২৩) আটক করে পুলিশ।

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সাদির আলী বলেন, তিনি সবুজকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সবুজের মাথার তিনটি স্থান ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য স্থানে জখম রয়েছে। নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীরে যারা প্রাণে মাইরা ফেলছে, আমি হেরার ফাঁসি চাই।’

মধ্যনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ গোলাম সারোয়ার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বোরো খেতের ধান গরু দিয়ে খাওয়ানোর জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে আজ রোববার সকালে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা হয়েছে। এই মামলার চার আসামির মধ্যে নজরুল ও নূর জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন