বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাবিবুর জানান, এবার ১০ হাজার টাকা করে বন্ধকি ২ একর, বর্গা ২ একর, নিজের ২ একর ৫০ শতকসহ ৬ একর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান আবাদ করেন তিনি। প্রতি একর ২০ হাজার টাকা করে ৬ একর ৫০ শতকে মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ১৪ হাজার টাকা প্রতি একর হিসাবে ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। রোগবালাই ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ায় ৬ একরে ধান পেয়েছেন ২১০ মণ। বর্তমান বাজারে এক মণ ধানের দাম ৭০০–৮০০ টাকা। ধানের বাজার কম হওয়ায় এই কৃষক ধান মজুত করেছেন। কিন্তু কৃষিশ্রমিকের ৮৪ হাজার টাকা তিনি দেনা করে মিটিয়েছেন। এখন সেই টাকা পরিশোধ করতে তিনি গোয়ালের একটি গরু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া ৫০ শতক জমির ফসল ঝড়ে নুয়ে পড়ায় সেই ধান কাটতে শ্রমিকেরা বেশি টাকা দাবি করছেন। তাই তিনি ৫০ শতক জমির ফসল না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাবিবুর বলেন, ‘৩ লাখ টাকা খরচ হইছে, ধান পাইছি ২১০ মণ। ১ হাজার টাকা কইরা ধান বেচলেও দাম পাওয়া যাইব ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। তাহলে লোকশান অইব ৯০ হাজার টাকা। আমার পরিশ্রম তো বাদই। তাহলে কেমনে চাষবাস করমু। শ্রমিকেরা মজুরি বেশি চাওয়ায় ৫০ শতক জমির ফসল খেতেই পইড়া রইছে।’ শ্রমিকের বেশি মজুরির কারণে শুধু হাবিবুর নন, তাঁর মতো উপজেলার প্রায় সব কৃষকেরই মাথায় হাত।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এখন চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। শেষ সময়ে শিলাবৃষ্টি ও রোগবালাইয়ে কৃষক আশানুরূপ ফলন ঘরে তুলতে পারছেন না। এ ছাড়া কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ফসল কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। অনেকেই লোকসান জেনেও ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে রাজনগর ইউনিয়নের বড় ডুবি এলাকার স্থানীয় শতাধিক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগবালাই ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল তেমন ভালো হয়নি। একরে ৫০ থেকে ৬০ মণ হারে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের মজুরি প্রতি একরে ১২–১৪ হাজার হওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।

বড় ডুবির আরেক কৃষক মো. সুজল হক বলেন, এবার আড়াই একর জমিতে বোরো আবাদ করেন তিনি। ফসল কাটতে শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে ৩৭ হাজার টাকা। আড়াই একরে ধান পেয়েছেন ১০০ মণ। এতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে ৮২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৭৫০ টাকা মণ হিসাবে তিনি ১০ মণ ধান বিক্রি করে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। বাজারে ধানের দাম বাড়লে পরে তিনি বাকি ধান বিক্রি করবেন।

জামালপুরের সানন্দবাড়ির কৃষিশ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ধান কাটতেই আমরা এখানে এসেছি। জমিতে পানি ও জুক (জোঁক) থাকায় ধান কাটতে অসুবিধা হয়। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুরই তো দাম বেশি। তাই খেত বুঝে প্রতি একরে ১২–১৪ হাজার টাকা নিয়ে আমরা ধান কাটচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন