কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোপা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান (৫০) গত মঙ্গলবার রাতে হত্যার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর লাশে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা এস এম আমির হামজার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে বুধবার একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গরু বেচাকেনা করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় পাঁচগাঁও বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। রাত ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাড়ির পূর্ব পাশে পতিত জমিতে রাখা খড়ে আগুন দেখে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে মজিবুরের বড় ভাই আতাউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তাঁর ভাইয়ের শরীরের ওপর খড়ের আগুন জ্বলছে। স্থানীয় লোকজনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রতিবেশী আমির হামজার কাছ থেকে আমার ভাই মাঝেমধ্যে সুদে টাকা আনতেন। জনি সুদের ব্যবসা ছাড়াও সীমান্তে বিভিন্ন পণ্য ও গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত মঙ্গলবার সকালে তিনি আমার ভাইকে পাওনা টাকার জন্য পুড়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে আমার ভাইকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফকরুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা ধারণা করছেন ওই ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর লাশটিতে আগুন দেওয়া হয়। সুদের টাকা নিয়ে মজিবুর রহমানকে এস এম আমির হামজা বাড়িতে এসে মজিবুরকে শাসিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনিসুর রহমান (২২) ও রুবেল মিয়া (২৩) নামের দুই তরুণকে আটক করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে হত্যার রহস্য দ্রুত উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন