default-image

মানিকগঞ্জে জেলা সদর হাসপাতালে ভুল করে গর্ভপাতচেষ্টার শিকার সেই নারীর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। গতকাল শনিবার রাতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশাদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৪ জানুয়ারি ভুল করে ওই নারীর গর্ভপাতের চেষ্টা করেন হাসপাতালের এক চিকিৎসা সহকারী (সেকমো)।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশাদ উল্লাহ বলেন, গত শুক্রবার রাত থেকেই জিয়াসমিন আক্তার নামের ওই নারীর পুনরায় রক্তক্ষরণ ও তলপেটে ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে গতকাল বিকেলে তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জিয়াসমিনের স্বজন ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার (২২) প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিলে ২৪ জানুয়ারি তাঁকে জেলা হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের ২০ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ওয়ার্ডে জিয়াসমিনের পাশের শয্যার এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভে মৃত সন্তান থাকায় তাঁর গর্ভপাত করার কথা ছিল। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা সহকারী ফাতেমা আক্তার ভুলে জিয়াসমিনের গর্ভপাতের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় জিয়াসমিনের স্বজনেরা রেগে গেলে গা ঢাকা দেন ফাতেমা। পরে জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। এরই আগেই গতকাল বিকেলে জিয়াসমিনের গর্ভের সন্তান মারা যায়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন