বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রতিদিন রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন আমার বড় ভাই। শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের সময় শফিক তাঁকে ফোন দিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি তখন বাসার বাইরে ছিলাম। ১০ মিনিট পর মায়ের কাছে গিয়ে ভাইয়ের মুঠোফোনে কল করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে একাধিকবার কল দিয়ে ভাইয়ের ফোন আর খোলা পাওয়া যায়নি।
লিটন, শফিকের ছোট ভাই

এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্র জানায়, শফিক মিয়া স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়েকে নিয়ে রাজনগর রোডের নিয়ামত আলীর কলোনিতে বসবাস করতেন। মাসহ তাঁর আরও দুই ভাইয়ের পরিবার শাহজিগাঁও এলাকায় পৃথক বসবাস করতেন। নিজের কেনা রিকশা চালিয়ে শফিক জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গতকাল সারা দিন রিকশা চালিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেন। রাতে আবার রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মরদেহ এলাকাবাসী রাস্তার এক পাশে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ সময় শফিকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

শফিকের আরেক ছোট ভাই লিটন জানান, প্রতিদিন রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন শফিক। শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের সময় শফিক তাঁকে ফোন দিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি (লিটন) তখন বাসার বাইরে ছিলেন। ১০ মিনিট পর মায়ের কাছে গিয়ে শফিকের মুঠোফোনে কল করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে একাধিকবার কল দিয়ে শফিকের ফোন আর খোলা পাওয়া যায়নি। রাজনগর রাস্তায় একটি লাশ পাওয়া গেছে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে শফিকের লাশটি শনাক্ত করা হয়।

এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। এ নৃশংসতার পেছনে বড় কোনো কারণ আছে। পুলিশ খুনি শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে।
শামীম মুসা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিশ্বনাথ থানা, সিলেট

লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শফিকের মাথার পেছন দিকে দুটো জখম ও হাতে-পায়ে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলায় রশি বাঁধার স্থানেও জখম দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাঁকে মারধর করে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে। নৃশংসতা প্রকাশ করতে ওই রশিটি রিকশার একটি চাকার সঙ্গে বেঁধে দুর্বৃত্তরা পালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারা, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—এ বিষয়ে শফিকের পরিবার থেকে কিছু জানা যায়নি উল্লেখ করেন বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ নৃশংসতার পেছনে বড় কোনো কারণ আছে। নিহতের ভাই রফিক মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ খুনি শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন