default-image

গাইবান্ধায় পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা শহরের গানাসাস মার্কেটের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। গাইবান্ধার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, গণফোরামের জেলা সভাপতি ময়নুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি প্রণব চৌধুরী, জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, বাসদ পাঠচক্র ফোরামের নেতা মনজুর আলম, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল গনি, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর কবির, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ, নারী মুক্তি কেন্দ্রের আহ্বায়ক রোকেয়া খাতুন, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্ক্সবাদী) নেতা মৃণাল কান্তি বর্মণ, ভুক্তভোগী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি পৌরসভার চেয়ারম্যান মৃত মোহাম্মদ খালেদের মেয়ে খালেদা আকতার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৬ জানুয়ারি গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাচনের দিন পূর্ব কোমরনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোহাম্মদ খালেদের বাড়িসহ প্রায় ১০টি বাড়িতে যে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে ও বাড়িঘরের ভেতরে ঢুকে মোটরসাইকেল, টিভি, আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে, তার বিচারও করতে হবে। এ সময় পুলিশ বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ আছে। এই ঘটনারও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, পুলিশ মানুষের বাড়িঘর ভাঙেনি। উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করেছে।

১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ শেষে শহরের পূর্ব কোমরনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফল ঘোষণা না করেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ ও নির্বাচনী অফিসের লোকজন ব্যালট ও মালামাল নিয়ে রওনা দেয়। এমন অভিযোগে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিষ্কার হওয়া সদস্য আনওয়ারুল সরওয়ারের (রেল ইঞ্জিন) সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা করে একটি গাড়িতে আগুন দেন। তাঁরা পুলিশ ও র‌্যাবের আরও তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ সময় পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজিত জনতার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি গাইবান্ধা রিজার্ভ পুলিশের পরিদর্শক মক্তাদুর রহমান এবং অন্যটি র‌্যাব বাদী হয়ে করে। সন্ত্রাস দমন আইনে একই অভিযোগে মামলা দুটি করা হয়।

পুলিশের মামলায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। র‌্যাব ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলাটি করে। এদিকে মামলার পর ওই দিন রাতেই এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১১ দিনে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন