বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গাইবান্ধায় ৭টি উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে পাটের চাষ হয় ১৬ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ বছর পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৮ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
default-image

গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারি গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক (৪৮)। তিনি বলেন, গত বছর প্রতি মণ পাট ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। সেই আশায় এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট বিক্রি করে সংসারের দায়দেনা মেটানোর কথা। দুই দিন আগে ফুলছড়ি হাটে পাট নিয়ে বিক্রি করতে পারেননি। এতে পাট নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৭টি উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে পাটের চাষ হয় ১৬ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। এ বছর পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৮ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর জেলায় পাট চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ হাজার ৯১০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর কৃষকেরা পাটের দাম ভালো পেয়েছেন। ফলে এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারি গুদাম বন্ধ। পাট কিনে তাঁরা বিক্রি করবেন কোথায়? তাই পাট কেনা বন্ধ রেখেছেন।
সোলায়মান আলী, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি এলাকার পাট ব্যবসায়ী
default-image

পূর্ব খাটিয়ামারি গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনিও ক্রেতার অভাবে পাট বিক্রি করতে পারছেন না। তাই সব পাট মজুত রেখেছেন। চাহিদা বাড়লে ও দাম বেশি পেলে বিক্রি করবেন।

গাইবান্ধা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট আটটি সরকারি পাটগুদাম আছে। কিন্তু এসব গুদাম বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলায় লাইসেন্সধারী পাট ব্যবসায়ী আছেন ২৬১ জন। পাটচাষি আছেন ২১ হাজার। তাঁদের সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি এলাকার পাট ব্যবসায়ী সোলায়মান আলী বলেন, সরকারি গুদাম বন্ধ। পাট কিনে তাঁরা বিক্রি করবেন কোথায়? তাই পাট কেনা বন্ধ রেখেছেন।

গাইবান্ধা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবদুল মাজেদ বলেন, পাটের দাম বাড়ায় জেলায় পাট চাষ বেড়েছে। সরকারি গুদামে পাট কেনা বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাট কিনতে পারছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন