default-image

দাদনের টাকার জন্য জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীর (৪৫) হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আজ সোমবার গাইবান্ধায় মানববন্ধন হয়েছে। শহরের ডিবি রোডের আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে মানববন্ধনটি হয়। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এই মানববন্ধনে শহরের ওষুধের দোকানসহ মার্কেট, শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পাঁচ শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন। গাইবান্ধা শিল্প ও বণিক সমিতি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরে গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমানসহ জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে অবস্থান ও এসপিকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।  

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন নিহত হাসান আলীর স্ত্রী বীথি বেগম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম, জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মকছুদার রহমান, গাইবান্ধা শিল্প ও বণিক সমিতির বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছেলিন, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ শরিফুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান, গাইবান্ধা শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দাদন ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি এবং সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন ও মো. আসাদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমানসহ জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় জেলায় সর্বাত্মক হরতালের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বীথি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামীর কোনো অপরাধ নেই। তাঁকে কেন নির্যাতন করে মারা হলো? আমি এর বিচার চাই।’

মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে এসপি কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের সামনে কিছু সময় তাঁরা অবস্থান নেন। এ সময় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এসপি মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম মতবিনিময় করেন। এসপি তাঁদের বক্তব্য শুনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় এসপি হাসান আলীর ছেলে হেদায়েতুল ইসলামের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এসপিকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপি পেয়ে গাইবান্ধার এসপি পাঁচ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ব্যবসায়ীরা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে ফিরে আসেন।

গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেশন রোডে আফজাল সুজ নামে নিহত হাসান আলীর জুতার দোকান ছিল। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা (৪২) একজন দাদন ব্যবসায়ী। ব্যবসা চলাকালে মাসুদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন হাসান আলী। সম্প্রতি মাসুদ রানা সুদের টাকার জন্য হাসান আলীকে চাপ দেন। ৫ মার্চ সকালে লালমনিরহাটের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে হাসানকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসেন মাসুদ। তাঁকে গাইবান্ধা শহরের খানকা শরিফসংলগ্ন নারায়ণপুর এলাকায় নিজের বাসায় এক মাস আটকে রাখেন। তাঁর স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ উল্টো হাসানকে মাসুদের জিম্মায় দেয়। ১০ এপ্রিল সকালে মাসুদের বাড়ি থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সদর থানায় মাসুদসহ তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেন। অপর দুজন হলেন শহরের স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ও খলিলুর রহমান ওরফে বাবু মিয়া।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন