বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বালাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাকিবুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। পরদিন মুঠোফোনে তার স্কুলশিক্ষক বাবা আশেক আলীর কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে অপহরণের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার কথা জানালে ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই গ্রামের একটি বিল থেকে সাকিবুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ

এদিকে গ্রেপ্তারের পর আসামি কবির হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ওই শিশুর আপন চাচা আবদুর রাজ্জাক। এরপর পুলিশ আবদুর রাজ্জাককেও গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় সাকিবুলের বাবা বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর ৯ জনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

পরিবারের অসন্তোষ

দীর্ঘ সাত বছর পর আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাকিবুলের বাবা। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহীন গুলশান নাহার প্রথম আলোকে বলেন, আদালতে আসামি কবির হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পুলিশও ১০ আসামিকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু আদালত আসামিদের খালাস দিয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

তবে এই রায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুওয়ালা মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার অভিযুক্ত ১০ আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এ জন্য আদালত শুনানি শেষে তাঁদের খালাস দিয়েছেন। এই রায়ে আসামিরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকার পক্ষের আইনজীবী শাহীন গুলশান নাহার বলেন, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে যোগ দেন। তাঁর যোগদানের আগেই এই মামলার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর করোনা এসে যায়। তিনি বলেন, রায়ের কপি না দেখে আসামিদের খালাস দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী জানান, আসামি কবির হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। শিশুর আপন চাচা আবদুর রাজ্জাকের পরিকল্পনায় অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন কবির। তাঁরা অন্তত এ দুজনের শাস্তি আশা করেছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন