default-image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় রইস উদ্দিন (৪০) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। রইস উদ্দিন মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি। তিনি উপজেলার ঘাঘটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, রইস উদ্দিনকে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার মানিগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

গত সোমবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক কামাল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন। তাঁকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন

কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদ ও সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে কামাল হোসেন বাদী হয়ে ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহ (৩৮), রইস উদ্দিন (৪০), দীন ইসলাম (৩৫), মুশাহিদ তালুকদার (৪৫) ও মনির উদ্দিনের (৫২) নাম উল্লেখ করে এবং আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ সোমবার রাতেই ঘাঘটিয়া গ্রামের ফয়সল আহমদ (১৯), আনহারুল ইসলাম (২০), তাহের হোসেন (২০) ও মাসরিবুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি নিতে সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় যান কামাল হোসেন। সেখানে ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহসহ কয়েকজন লোক তাঁকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ব্যক্তিরা পরে তাঁকে ধরে নিয়ে যান পাশের চকবাজারে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় আরেক সাংবাদিক ও কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন এলাকার বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন