default-image

ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্দেশ্বরী এলাকায় খননযন্ত্রের সাহায্যে গাজীখালী নদীর বালু লুট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রকাশ্যে নদীর বালু লুটপাট করলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

গাজীখালী নদী ঢাকার ধামরাই ও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সীমানা ঘেঁষে প্রবহমান। তবে নান্দেশ্বরী এলাকায় নদীর দুই তীরই পড়েছে ধামরাই উপজেলায়। ওই এলাকায় দুটি খননযন্ত্রের সাহায্যে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই এলাকার হারেসুল ইসলাম, রাজ্জাক, বাবুল নামের তিন ব্যক্তিসহ তাঁদের সহযোগীরা প্রকাশ্যে নদীর বালু লুটপাট করছেন। হারেসুল সরকারি কর্মচারী। মূলত তাঁর (হারেসুল) প্রভাবেই অন্যরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। কেউ বাধা দিলে তাঁদের গ্রেপ্তারসহ নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেন বালু লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন
নান্দেশ্বরী গ্রামে নদীর তীরে দিনমজুর খোরশেদ আলমের বাড়ি। তাঁর বাড়িসংলগ্ন নদীতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বসানো হয়েছে খননযন্ত্র।

নান্দেশ্বরী গ্রামে নদীর তীরে দিনমজুর খোরশেদ আলমের বাড়ি। তাঁর বাড়িসংলগ্ন নদীতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বসানো হয়েছে খননযন্ত্র। খোরশেদের ছেলে আল-আমিন বলেন, খননযন্ত্রের সাহায্যে মাটি কাটার ফলে নদীতীরে ভাঙন ধরেছে। ভাঙনের ফলে তাঁদের বাড়ি হুমকির মুখে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাঁরা স্থানীয় কাওয়ালিপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ধামরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন। এরপরও বালু লুট বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

খোরশেদের বাড়ির ১০০ গজ দূরে আরও একটি খননযন্ত্র বসানো হয়েছে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বাড়িসংলগ্ন নদীতে। বালু উত্তোলনের ফলে তাঁর বাড়িটিও হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি।

ওয়াসিম বলেন, তাঁরা বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বাধা দিলে তাঁদের পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নান্দেশ্বরী এলাকায় গাজীখালী নদীর যে অংশে অবৈধভাবে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখানে অন্তত ৩০টি বাড়ি রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে নদীর দক্ষিণ পাশের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব ঘরবাড়ি একসময় নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

এ অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হারেসুল ইসলাম বলেন, তিনি সরাসরি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন। এলাকার কিছু ব্যক্তি তাঁর জমির সামনে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তিনি মাঝেমধ্যে তদারকি করেন।

নদী থেকে বালু লুটের বিষয়টি ইউএনও সামিউল হকের নজরে আনা হলে তিনি বালু লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে সহায়তা করতে বলেন। মুঠোফোন নম্বর পেলে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।শ

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন