বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে তার মা-বাবা প্রতিদিনের মতো তাঁদের কর্মস্থলে যান। এই সুযোগে ওই শিশু সকাল সাতটার দিকে চন্দ্রা এলাকায় ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে ওই শিশু পাশের রঞ্জিত মেডিকেল হল নামে একটি ওষুধের দোকানের ভেতরে ঢুকে বলে দাবি করেন পাশের দোকান ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের মালিক আনোয়ার হোসেন। ওই সময় ওষুধের দোকানমালিক মিছির কুমার বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। ফলে চোর সন্দেহে ওই শিশুকে আটক করেন আনোয়ার হোসেন। এরপর আনোয়ার ও মিছির কুমার মিলে তাকে রশি দিয়ে সিমেন্টের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই শিশুর পরিবারকে থানায় ডেকে এনে শিশুকে তাঁদের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এদিকে চুরি না করলেও চোর সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শিশুকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানা–পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শিশুটির মা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ফোন পেয়ে তিনি থানায় যান। থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে বলে, ‘ছেলেকে নিয়ে যান। সে যেন আর কিছু না করে।’ তাঁর ছেলের অপরাধ কী—সেটি জানতে চাইলে পুলিশ তাঁকে আর কিছু বলেনি। কিন্তু লোকজন তাঁকে বলেছে, ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়েছে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাই ভাই হার্ডওয়ার দোকানের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, না বলে সে দোকানে ঢুকেছিল। সুযোগ পেলে চুরি করত।

এদিকে রঞ্জিত মেডিকেল হলের মালিক মিছির কুমার বলেন, ‘আমি পানি আনতে গিয়েছিলাম। এসে শুনি ওই ছেলেটি আমার ক্যাশে হাত দেয়। কিন্তু টাকা চুরি করতে পারেনি। বিষয়টি টের পেয়ে পাশের দোকানদার তাকে আটক করে বেঁধে রাখে। কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। তবে মারধর করা হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বাঁধা পায়নি বা তাকে মারধর করতেও দেখা যায়নি। শিশুটির সঙ্গে অন্যায়ভাবে কিছু হয়ে থাকলে তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন