জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্টিকারযুক্ত গাড়িতে করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের দুই মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন চালক হিরা মিয়া। দুপুর ১২টার দিকে তাঁর গাড়িটি রাজবাড়ি রোডে শহরের রাণী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় মোড়ে এসে পৌঁছালে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে বলেন। এ সময় চালক হিরা মিয়া ট্রাফিক পুলিশকে জানান, গাড়িতে জেলা প্রশাসকের দুই মেয়ে আছে।

এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য ডিসির গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এ সময় চালক হিরা মিয়া প্রতিবাদ করলে লাঠি দিয়ে তাঁকেও আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে হিরা মিয়াকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাতে চান দুই পুলিশ কনস্টেবল ইউসুফ ও নুর মোহাম্মদ। পরে চালক রাস্তা ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে ডিসির বাসভবনে চলে যান।

জেলা প্রশাসকের গাড়ির চালককে পুলিশের মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সব কর্মচারী কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক অবরোধ করেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তাঁরা আধা ঘণ্টা রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে প্রশাসকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা–কর্মচারীদের বুঝিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গাড়িচালকের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের একটি ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।