default-image

লকডাউনের প্রথম দিন গত বুধবার পুরো গাজীপুর ছিল জনশূন্য। রাস্তাঘাট বা নগরের অলিগলিতে জনসমাগম ছিল না বললেই চলে। সড়ক-মহাসড়কে ছিল হাতে গোনা কয়েকটি যানবাহন। পুলিশের চেকপোস্ট, প্রশাসনের তৎপরতায় লকডাউন পালিত হচ্ছিল কঠোরভাবে।

লকডাউনের তৃতীয় দিন আজ শুক্রবার গাজীপুরে অনেকটাই পাল্টেছে সেই চিত্র। সরেজমিনে ঘুরে, নগরের অলিগলি বা রাস্তাঘাটে বেশ জনসমাগম দেখা গেছে। সড়ক-মহাসড়কে বেড়েছে যান চলাচল। নিয়ম ভেঙে দোকানপাটও খুলেছে কিছু কিছু জায়গায়। সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে চোখে পড়ে পুলিশের তৎপরতা।

টঙ্গী বাজার নগরের অন্যতম প্রধান বা বিশেষ পরিচিত বাজার। আলু, মুরগি, মাছ, মাংস, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায় এখানে। ক্রেতা বিক্রেতা বা সাধারণ মানুষের পদচারণে ২৪ ঘণ্টাই মুখর থাকে পুরো বাজার এলাকা। কিন্তু গত বুধবার লকডাউন শুরু হলে পুরো বাজারে নেমে আসে একধরনের নিস্তব্ধতা। প্রায় সব দোকাপাট ছিল বন্ধ, ছিল না মানুষের আনাগোনা। কিন্তু আজ সকাল আটটার দিকে বাজারে গিয়ে গত দুই দিনের তুলানায় মানুষের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা মুদিদোকানের পাশাপাশি একটি–দুটি করে খুলছে অন্যান্য দোকান। এতে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা বা চলাচল।

বিজ্ঞাপন
default-image

লকডাউনের শুরুতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বা কড়াকড়ি আরোপ। প্রয়োজনের বাইরে কাউকে বের হতে থেকে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ, জনসাধারণ বা যান চলাচলে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে তাদের। কিন্তু আজ সকালে সরেজমিনে ঘুরে আগের সেই চেকপোস্ট বা কঠোর অবস্থান দেখা যায়নি। তবে সড়কের কয়েকটি জায়গায় পুলিশ দেখা গেছে। গণপরিবহন না চললেও বেড়েছে যান চলাচল। সড়কজুড়ে ছিল রিকশা–অটোরিকশার দাপট।

নগরের আউচপাড়া, দত্তপাড়া, কাজীবাড়ি, উত্তর ছায়াবীথি, দক্ষিণ ছায়াবীথি, মুন্সিপাড়াসহ কিছু এলাকা ঘোরেন এ প্রতিবেদক। তাতে দেখা যায়, এসব এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কিছু দোকান খুলেছে। এসব দোকানে বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসছেন কেউ কেউ। এর বাইরে অনেককেই দেখা গেল কৌতূহলবশত বাসার বাইরে বের হতে বা ঘুরতে। তবে এসব আবাসিক এলাকার অধিকাংশ দোকানপাটই ছিল বন্ধ।
এসব এলাকা ঘুরে কথা হয় কিছু লোকজনের সঙ্গে। এর মাঝে টঙ্গী বাজার এলাকার নারকেল বিক্রেতা মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘গত দুই দিনের তুলনায় লোকজন কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু বেচাকেনা একেবারেই কম। আগে প্রতিদিন ৫০০ নারকেল বিক্রি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০টি।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা ২৭ এলাকায় কথা হয় অটোরিকশাচালক মো. হানিফের সঙ্গে। তিনি যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন তো পুলিশ রাস্তায় দাঁড়াতেই দেই নাই। এখন কিছুটা ট্রিপ মারতে পারছি। লোকজন কিছুটা বাড়ছে। আমরা গরিব মানুষ, লোকজন না বাইর হইলে খামু কী?’

আউচপাড়া এলাকার কলেজ রোডে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. উম্মে কুলসুমের সঙ্গে। তিনি বাজার করতে নেমেছেন বাসা থেকে। তিনি বলেন, ‘লকডাউন শুইনা কাজের লোকজনও আসা বন্ধ কইরা দিছে। তাই বাধ্য হইয়া বাজার করতে বের হইছি। তাঁর দাবি, তিনি যথাযথ স্বাস্থবিধি মেনেই রাস্তায় নেমেছেন।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ–পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. জাকির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের তৎপরতা আগের মতোই আছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় চলাচল রোধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া দোকানপাট বন্ধ রাখার ব্যাপারে অভিযান চালানোসহ জনসাধারণকে সব সময়ই সতর্ক করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন