এ সময় শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো সারা দেশে সড়ক, নৌ, রেল ও মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসহীন ও লাইসেন্সবিহীন কোনো পরিবহন চলাচল করতে পারবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রাক্রসিং থাকতে হবে এবং এসব ব্যবহার না করার জন্য কঠোর আইনের ব্যবস্থা করতে হবে। গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পথচারী বা যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সারা দেশে প্রতি জেলায় যতগুলো বিআরটিসির বাস ছিল, সেগুলো সচল করতে হবে এবং সব জেলায় বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। গাড়িচালকদের জন্য দেশে যতগুলো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ছিল, সেগুলো সচল করতে হবে এবং প্রতি মাসে ডোপ টেস্ট করতে হবে। কোনো গাড়িচালক দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি ডিউটি করতে পারবেন না এবং সেই হিসাবে বেতন পাবেন। মালিকের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের দৈনিক জমার চুক্তি থাকতে পারবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাসের অভ্যন্তরে ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পুরো ভাড়া দেবে, এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক। এক দেশে কেন দুই নীতি? এটা আমরা মানি না।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা

গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধে৵ বিভাজন সৃষ্টি না করে সারা দেশে ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি ও হাফ ভাড়া কার্যকর করুন। না হলে অচিরেই ছাত্ররা তাদের দাবি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করবেন। আমরা আজ মানববন্ধন করলাম, দুই-এক দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনে নামব।’

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হারুনর রশীদ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্ররা তাঁদের দাবি আদায় করেছেন। অতএব নিরাপদ সড়ক ও হাফ ভাড়া কার্যকরের এই যৌক্তিক দাবিও ছাত্ররা আদায় করে ঘরে ফিরবে। সুতরাং আন্দোলন বৃহৎ আকার ধারণের আগেই দাবিগুলো মেনে নিন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন