বিজ্ঞাপন

পুঞ্জির বাসিন্দা তমাল মারাক আজিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বাগানে এক হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পানগাছ কাটার সময় আমরা কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। তাঁদের বাড়ি আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশকে তাঁদের নাম-ঠিকানা দিয়েছি। বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে এসব লোক জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।’

পুঞ্জির লোকজন বলছেন, সাহেবটিলা পুঞ্জিটিতে ১৮টি গারো পরিবারের ৫০-৬০ জন লোক থাকেন। পান চাষই তাঁদের একমাত্র জীবিকা। সেখানে প্রায় ৬০ একর টিলাভূমি তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন। ওই জমি নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছে। এ অবস্থায় ১৩ এপ্রিল একদল বহিরাগত লোক পুঞ্জির বাগানে ঢুকে ১৫০টি পান এবং ২০ থেকে ২৫টি বনজ প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেন। এ ব্যাপারে পুঞ্জিপ্রধান গ্রিনাল রংদি বাদী হয়ে ১৪ এপ্রিল কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক বনায়নের নামে তাঁদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বন বিভাগ আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় এ কাজটি করায়। এরপর ১৬ এপ্রিল একইভাবে বহিরাগত লোকজন ঢুকে পুঞ্জির পানগাছ কাটতে থাকেন। এ সময় ধাওয়া করে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৭ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিরোধ মিটমাটে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ঈদুল ফিতরের পর প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। এর আগপর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে বলা হয়।

কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বেশ কিছু পানগাছ কাটা দেখেছেন। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগের স্থানীয় নলডরি বিটের ফরেস্টার জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, এ ঘটনায় বন বিভাগ অথবা সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কোনো উপকারভোগী জড়িত নন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সাহেবটিলা পুঞ্জিতে পানগাছ কাটার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। আগামী সপ্তাহে ওই এলাকায় তাঁদের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন