বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দক্ষিণাঞ্চলগামী ও ঢাকাগামী গাড়ির পাশাপাশি দীর্ঘ দুই সারি। সড়কের উভয় দিকে পণ্যবাহী গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়িসহ অন্যান্য যান আটকে আছে।

মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় দুই পাশে প্রায় তিন ফুট প্রস্থের গর্ত করে রাখা হয়েছে। এতে সড়ক আরও সংকুচিত হয়েছে। দুই লেনের মহাসড়কের উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত স্কেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী পণ্যবাহী গাড়ির সারি। স্কেলের মিটারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কাউন্টার থেকে হাতে লিখে স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে যানবাহনের ওজন দিতে আরও দেরি হচ্ছে।

কাউন্টারে থাকা বিআইডব্লিউটিসির কম্পিউটার অপারেটর মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডিজিটাল মিটারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যে কারণে আমরা গাড়িতে থাকা পণ্যের ওজন স্লিপ দেখে হাতে লিখে স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছি।’

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী গাড়ির অন্যতম প্রবেশদ্বার গোয়ালন্দ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনাসহ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নানা দুর্ঘটনার কারণে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব বেশি। বিআইডব্লিউটিসির ওয়ে স্কেল থেকে ২০০ গজ দূরে সড়কের পশ্চিমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান। ওয়ে স্কেলের বিপরীত দিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তর। আশপাশে রয়েছে রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা ডিগ্রি কলেজ, উপজেলা পরিষদ, পোস্ট অফিস ও জামতলা বাজার।

ওয়ে স্কেলের কারণে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহনের জটে হাসপাতালের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নে হাসপাতালের রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ শেখ জানান, কয়েক দিন আগে এখানে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের এক চালক গুরুতর আহত হন। পণ্যবাহী গাড়ির লাইনের কারণে হাসপাতালের যাওয়ার পথ বন্ধ ছিল। দ্রুত তাঁকে ফরিদপুরে নেওয়া হয়। তবে ফরিদপুর পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া শাহাজদ্দিন ব্যাপারীপাড়ার লুৎফর রহমান জানান, গত জুনে তাঁর স্ত্রী রেহেনা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাঁকে নিয়ে অটোরিকশায় করে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। হাসপাতালের রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে তাঁরা হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গাড়িতে তিনি সন্তান প্রসব করেন। অনেক কষ্টে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ বলেন, যানজটে হাসপাতালের রাস্তা বন্ধ থাকায় রোগী আনা–নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গাড়ির অতিমাত্রায় হাইড্রোলিক হর্নে রোগী, কর্মী ও আবাসিক বাসিন্দারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। উপজেলা সমন্বয় সভায় জোরালোভাবে স্কেল স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্কেল স্থানান্তর–সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক সভায় স্কেল স্থানান্তরের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আটকে রাখা পণ্যবাহী গাড়ি অনেকক্ষণ পর একত্রে ছেড়ে দিলে স্কেলের কাছে এ যানজট হচ্ছে।

তবে আপাতত স্কেলটি সরানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, সওজ যদি দুই হাত করে সড়ক প্রশস্ত করে, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। এ বিষয়ে সওজসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন