বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২ জানুয়ারি রূপপুর ইউপির নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইমরান হোসেন ওরফে সাদ্দামকে হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর সমর্থকদের দায়ী করে আমিনপুর থানায় মামলা করা হয়। ওই রাতেই কৈটোলা ইউনিয়নের আওয়াল বাঁধ এলাকায় নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মোহসিন উদ্দিন ও তাঁর সমর্থকদের দায়ী করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

চার থেকে পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করেন, তাঁদের ফাঁসানোর জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার নাটক করছেন। এ ধরনের ঘটনা যে ঘটবে, তা তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি দলের প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঠে নামতে না দেওয়ার এটি পুরোনো কৌশল।

চার থেকে পাঁচ দিন ধরে হঠাৎ করেই নৌকার প্রার্থীদের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দায়ী করে থানায় মামলা করা হচ্ছে।

নতুন ভারেঙ্গা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু দাউদ সম্প্রতি বেড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর নৌকা প্রার্থীর ক্যাম্পে সাজানো হামলা হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আবু দাউদ বলেন, ‘ফাঁকা ও জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় নৌকার বেশ কয়েকটি নির্বাচনী ক্যাম্প করা হয়েছে। গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি, নৌকা প্রতীকের লোকজনই সেগুলো পুড়িয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবে। এ জন্য আগেভাগেই আমি নির্বাচনসংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাতে নৌকার ক্যাম্প পাহারা দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে অনুরোধ করেছি।’

তবে নতুন ভারেঙ্গা ইউপির নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘নৌকার বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচারে লিপ্ত। তারাই আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ও নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

১ জানুয়ারি রাতে চাকলা ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া বাজারে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের পর নৌকার প্রার্থী ফারুক হোসেন এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইদ্রিস সরদার ও তাঁর সমর্থকদের দায়ী করে মামলা করেন। এ ব্যাপারে ইদ্রিস সরদার বলেন, ‘হামলার এই ঘটনা যে সাজানো নাটক, তা যে কেউ বুঝবে। আমাদের প্রতি ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখে নৌকার প্রার্থীর লোকজনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

২ জানুয়ারি মধ্যরাতে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শওকত ওসমান স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মোহসিন উদ্দিনের সমর্থকদের দায়ী করেছেন। তবে মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘তাঁরা কয়েক দিন ধরেই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অজুহাত খুঁজছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে আমার কর্মীরা দীর্ঘ দূরত্ব বজায় রেখে চলে। এরপরও তাঁরা নিজেরাই নিজেদের ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে আমাদের নামে মামলা দেওয়ার জন্য। তাঁরাই উল্টো আমার প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে।’

বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকার ও আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলম বলেন, গত কয়েক দিনে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলাসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে যাচাইবাছাই ও তদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন