বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা বাফা সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগের সার এখনো গুদামে মজুত আছে। জেলা বাফার সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম জানান, গুদামের ধারণক্ষমতা ছয় হাজার মেট্রিক টন। কয়েক বছর আগে ২০-২২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করা হয়। ধারণক্ষমতার বেশি সার আমদানির ফলে বাইরে খোলা জায়গায় তা রাখা হয়। ২০১৭ সালের বন্যায় সারগুলো পানিতে ভিজে জমাট বাঁধে। সেই সার এখনো বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদুল ইসলাম বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার জেলা প্রশাসনসহ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) ভালো মানের সার সরবরাহ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনো ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো নতুন সারের সঙ্গে ২০ শতাংশ পুরোনো সার ডিলারদের বিক্রির জন্য দেওয়া হচ্ছে; যা কৃষকেরা কিনতে চান না।

গত বুধবার দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় বাফার গুদাম ঘুরে দেখা যায়, গুদামভর্তি কয়েক হাজার ইউরিয়ার বস্তা জমাট বেঁধে আছে। ডিলারদের নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো সারও গাড়িতে সরবরাহ করছেন শ্রমিকেরা।

বিসিআইসির দিনাজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিলাররা সরকারনির্ধারিত ৭০০ টাকা দরে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া কিনে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

জমাট সার কেনার অনাগ্রহের বিষয়ে সদর উপজেলার মাকিহার গ্রামের কৃষক আউয়াল হক বলেন, চার থেকে পাঁচ বছর আগের সার। জমাট ভাঙলেও একেবারে গুঁড়া হয় না। গুটি গুটি থেকে যায়। জমিতে ছিটানো যায় না।

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমাট বাঁধলেও সারের গুণ ঠিক থাকবে। তবে জমিতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কৃষকের। যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইউরিয়া গাছের গোড়ায় পড়ে, সে ক্ষেত্রে গাছ মারাও যেতে পারে।

জেলা বাফার গুদামের উপপ্রধান (রাসায়নিক) দ্বিজেন্দ্রনাথ রায় ডিলারদের মধ্যে পুরোনো জমাট বাঁধা সার সরবরাহের বিষয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন সারের সঙ্গে পুরোনো ২০ শতাংশ সার ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন