default-image

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গুলির পর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই ব্যক্তির নাম জয়নাল আবেদিন (৩৮)। তিনি মগনামা ইউনিয়নের মৃত নুরুন্নবীর ছেলে। আহত ব্যক্তির নাম আলী আকবর (৩৮)। তিনি নিহত জয়নালের বন্ধু ও একই এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মুজিবুর রহমান বলেন, জয়নালের বুকে গুলি লেগেছে, ঘাড়ে ও হাতে ধারালো দায়ের কোপের চিহ্ন আছে। ঘাড়ে কোপ লাগায় তাঁর রগ কেটে গেছে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মারা গেছেন। আলী আকবরের বুকেও গুলি লেগেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বোরকা পরে ফুলতলা স্টেশনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামেন ১০ যুবক। নেমেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করেন। ওই সময় একটি চায়ের দোকানের সামনে বসা ছিলেন আলী আকবর ও জয়নাল আবেদিন। আলী আকবরের বুকে গুলি লাগলে তিনি দৌড় দেন। আর জয়নাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে জয়নালকে এলোপাতাড়ি মাথায়, ঘাড়ে কোপ দেওয়া হয়। জয়নালের বুকে ও হাতে গুলি লাগে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা বোরকা পরা যুবকদের ধাওয়া দিলে তাঁরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান। এরপর আহত দুজনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছার পর জয়নাল আবেদিনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

নিহত জয়নাল আবেদিনের ভাই সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, মো. মকসুদ, মোস্তাক আহমদ, নেজাম উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, মো. সায়েদ, আবুল হাসেমসহ ১৪-১৫ জন বোরকা পরা অবস্থায় তাঁর ভাই ও আলী আকবরকে গুলি করার পর কুপিয়েছেন। এতে জয়নাল নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আলী আকবর। কয়েক দিন আগে তাঁর (সাহাবউদ্দিন) ওপর হামলার ঘটনার জেরে আবারও এই হামলা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান মজুদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মগনামা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে চেষ্টা করছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন