বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নান্দুরা গ্রামে নিহতের বাড়িতে অবস্থান করে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। ঘরে এরশাদুলের স্ত্রী সুমি বেগম, মা রওশানার বেগম, উঠানে কাতারপ্রবাসী ভাই আক্তারুজ্জামান, আরেকটি ঘরে বাবা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বসে কাঁদছেন। এরশাদুলের দুই ছেলে ও একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

default-image

এরশাদুলের স্ত্রী সুমি বেগম প্রথম আলোকে জানান, শুক্রবার বিকেলে আসরের আজানের সময় সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। পরে রাতে স্বামীকে আবার ফোন দেন তিনি। তখন এরশাদুল ওয়াজ মাহফিলে কথা বলছিলেন। অন্য কেউ ফোন ধরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তখন স্বামীকে সালাম দিয়ে বলতে শুনেছি, “আমি চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমার জন্য দোয়া করবেন”।’ তিনি বলেন, ‘রাতে আমার মেয়ে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ছোট মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে “বাবা” বলে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। আমি সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়াই। কিছুক্ষণ পরই আমার দেবর আক্তারুজ্জামান দরজায় ধাক্কা দিয়ে খুলতে বলেন। ঘরে ঢুকেই স্বামীকে গুলি করে হত্যার কথা জানান দেবর।’

উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের মহেশ সড়কে দুর্বৃত্তরা প্রথমেই বাদলকে এবং পরে এরশাদুলকে গুলি করে। বাদল সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় এরশাদুল হাসপাতালে মারা যান।

নিহত এরশাদুলের বাবা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সব কাজ ছেলেই করত। আমি অসুস্থ। তাই ছেলেকে বলেছিলাম, যদি সে মনোনয়নপ্রত্যাশী হতে চায়, তাহলে আমি নির্বাচন করব না। ছেলে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। গ্রামের লোকজন তাকে অনেক পছন্দ করত। সে এলাকায় জনপ্রিয় ছিল। সাইদুল্লাহ নামের ভাতিজাকে হত্যার ঘটনার মামলায় বাদী হয়েছিল এরশাদুল। এসব কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

default-image

নান্দুরা গ্রামে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের জায়গায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে থাকেন বাদল সরকার। বাদল একসময় মিস্ত্রির কাজ করতেন। তবে দুই বছর ধরে এরশাদুলের বিভিন্ন ঠিকাদারির কাজ দেখাশোনা শুরু করেছিলেন বাদল। পাশাপাশি এরশাদুলকে বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেলে আনা-নেওয়া করতেন। বেলা তিনটার দিকে বাদলের লাশ গ্রামে নেওয়া হয়। স্বজনেরা লাশের পাশেই আহাজারি শুরু করেন। বোন ঋতু রানী সরকার বারবার মূর্ছা যান।

বাদলের মা সনিতা রানী সরকার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ছেলে সৌদি আরব যেতে চেয়েছিল। এ জন্য পাসপোর্টও করেছিল। কিন্তু ছেলেকে তারা গুলি করে মেরে ফেলল। আমার কোলকে তারা খালি করে ফেলল। আমার ছেলের আর বিদেশ যাওয়া হলো না।’

নাটঘরের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এরশাদুল গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুড়িঘর বাজারের পাশে ওয়াজ মাহফিলে দোয়া চাইতে যান। সবার কাছে দোয়া চেয়ে মোটরসাইকেলে করে বাদল সরকারের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের মহেশ সড়কে দুর্বৃত্তরা প্রথমেই বাদলকে এবং পরে এরশাদুলকে গুলি করে। বাদল সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় এরশাদুল উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদুল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন