default-image

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শুভরাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নূর আলী শেখকে (৪৫) গত রোববার রাত আটটার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নূর আলী শেখ উপজেলার শুভরাড়া গ্রামের আসির আলী শেখের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্যও ছিলেন।

আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নূর আলী শেখের বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন আমি মামলা করতে থানায় রয়েছি।’ তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যায় শুভরাড়া গ্রামের আশরাফ উদ্দীন একাডেমির সামনের কবরস্থানে নূর আলী শেখের মরদেহ দাফন করা হয়। তা ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সময় গুলিতে নূর আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (১৬) আহত হন। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মরদেহ দাফনের পর মামলা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কথা বলেছেন তিনি। পরে খুলনায় হাসপাতালে গিয়ে ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে তিনি কথা বলে এসেছেন। এ জন্য মামলা করতে দেরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নূর আলী শেখের পরিবার ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শুভরাড়া গ্রামের বাবুরহাটে নূর আলী শেখের একটি নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয়টি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রোববার রাতে তিনি ওই কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শুভরাড়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন নূর আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (১৬)।

রাত ৮টা ২ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলটি কার্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরে একটি বটগাছের নিচে পৌঁছায়। এ সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী চলন্ত অবস্থায় ইব্রাহিমের বাঁ পায়ে দুটি এবং বাঁ হাতে একটি গুলি করে। এতে তাঁরা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যান। এরপর সন্ত্রাসীরা নূর আলীর মাথার পেছনে ডান পাশে গুলি করে। গুলিটি মাথার সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মঙ্গলবার বিকেল চারটা ছয় মিনিটে প্রথম আলোকে বলেন, থানায় এসে মামলা করতে পরিবারের সদস্যদের বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা সবার সঙ্গে কথা বলে এবং খুলনার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নূর আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে কথা বলে মামলা করতে চান বলে জানিয়েছেন। এ কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে। তাঁরা থানায় এসেছেন। ঘণ্টা দুইয়ের মধ্যে মামলা রেকর্ড হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন