বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানোর হুমকি দিলে গতকাল বিকেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সুমি বেগম ও তাঁর মা দিলারা বেগম ওই কিশোরীকে নিয়ে পাইকোরদোল গ্রামে আসেন। মা–বাবার কাছে এসে ওই কিশোরী জানায়, তিন বছর ধরে তাকে নানা অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। আগুনের ছেঁকা দেওয়াসহ তাকে নানা নির্যাতন চালানো হয়েছে। শব্দ করে কাঁদলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হতো। এই নির্যাতন করতেন শুধু সুমি বেগম।

ওই কিশোরী আরও জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার আতিকুর তার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করতেন। তাকে মা বলে ডাকতেন। তাকে মারধরের কারণে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বকাঝকা করতেন। অধিকাংশ সময় তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্যাতন চালানো হতো।

পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পাইকোরদোল গ্রামের লোকজন ঘটনাটি জানার পর বুধবার সন্ধ্যায় সুমি বেগম ও তাঁর মাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে গ্রামবাসী তাঁদের পুলিশে হস্তান্তর করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্যাতিতা কিশোরী ও পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সুমি বেগমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন। অবশেষে রাত ১১টার দিকে সুমির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা নার্গিস বেগম। শিশু আইন-২০১৩–এর ৭০ ধারায় এই মামলা করা হয়। এই ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তারেক জুবায়ের জানান, গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল সন্ধ্যায় পাইকোরদোল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সুমিকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই কিশোরীর মায়ের মামলা নেওয়া হয়। এখন পুলিশ অভিযোগ তদন্ত করবে। আইন সবার জন্য সমান। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন