default-image

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গৃহবধূকে (৩৫) ধর্ষণের চেষ্টা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলাটি করেন। গ্রেপ্তার ওই যুবকের নাম জাহাঙ্গীর আলম (২৮)। তিনি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী। তাঁর স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা না হওয়ায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয়। সেই সূত্র ধরে জাহাঙ্গীর ওই গৃহবধূর বাড়িতে অবাধে যাতায়াত করেন এবং আর্থিক লেনদেনও করেন। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঘরের ভেতর সবজি কাটার কাজ করছিলেন ওই গৃহবধূ। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম এসে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। নিজেকে রক্ষা করতে গৃহবধূ জাহাঙ্গীরকে বঁটি দিয়ে কোপাতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জাহাঙ্গীর বঁটি কেড়ে নিয়ে পাল্টা কুপিয়ে তাঁকে জখম করেন। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে রাতে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অন্যদিকে, আহত জাহাঙ্গীর আলম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের কাছে জাহাঙ্গীর দাবি করেন, তিনি ওই গৃহবধূর কাছে টাকা পান। সেই পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গৃহবধূ তাঁকে বঁটি দিয়ে কুপিয়েছেন। বঁটির আঘাতে তাঁর পা কেটে গেছে। ওই গৃহবধূকে কোপানো বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়নি।

এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর ভাষ্য, তাঁর কাছে জাহাঙ্গীর আলম কোনো টাকা পান না। তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগে করা মামলায় জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আহত জাহাঙ্গীরের পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0