default-image

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় স্বামীকে রক্ষায় এগিয়ে আসা গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতভর বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাকিল হোসেনসহ (৪০) জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৫ এপ্রিল ইউনিয়নের চর মিয়াজানে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি হয়। ১৬ এপ্রিল এ ঘটনায় একজন নারীকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ও প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গ নিয়ে পুলিশ গতকাল সারা রাত অভিযান চালায়। সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে আসামিদের শনাক্ত করে প্রধান অভিযুক্তসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ভিডিওতে নীল রঙের গেঞ্জি পরিহিত যাঁকে আকলিমা বেগমকে লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে পেটাতে দেখা গেছে, তিনি শাকিল হোসেন ওরফে শাকিল ডাক্তার। তাঁকে গতকাল রাতে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মো. শাহ আলম গাজী (৫০), মো. জাফর হাওলাদার (৪০), মো. হৃদয় বিশ্বাস (১৯), সজীব হাওলাদার (১৯), মনির মৃধা (৩৫), পারভেজ মীর (৩৫), ইউসুফ মৃধা (৩০) ও আজিজুল হক (৪৫)। তাঁদের সবার বাড়ি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান গ্রামে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, কিছু বর্বর লোক মধ্যযুগীয় কায়দায় নারীর ওপর নির্যাতন করেছে। নারীর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় জড়িতদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বা দেবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এ ঘটনার পর পরই ১৫ এপ্রিল নির্যাতনের শিকার আকলিমার শ্বশুর বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাউফল থানায় একটি মামলা করেছেন।

ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুকিত হাসান ও বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষের সময় আকলিমা তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ওপর বর্বর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। যার কিছু অংশ ভিডিও করেন স্থানীয় এক যুবক। ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিও গতকাল ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন