default-image

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেলিনা খাতুন (৪২) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে থাকার ঘর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সেলিনার স্বামীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

সেলিনা খাতুন উপজেলার গোবিন্দপাড়া গ্রামের আফাজ আলীর মেয়ে। আর আটক ব্যক্তিরা হলেন সেলিনার স্বামী আবদুল লতিফ (৫০), তাঁর ছোট ভাই সিদ্দিক হোসেন (৪২) ও সিদ্দিকের স্ত্রী নার্গিস বিবি (৩২)। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর ছেলে সাকিবুল হাসানকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার গোবিন্দপাড়া গ্রামের সেলিনা খাতুনের সঙ্গে ২৫-২৬ বছর আগে মাড়িয়া গ্রামের আবদুল লতিফের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে আছে। প্রায় ৫ বছর আগে আবদুল লতিফকে ছেড়ে সেলিনা খাতুন পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন। পরে আবদুল লতিফও দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তবে বছরখানেক আগে আবদুল লতিফের সঙ্গে ফের সংসার শুরু করেন সেলিনা। কিছুদিন পরই উভয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

লতিফ ও তাঁর পরিবারের লোকজন প্রায়ই সেলিনা খাতুনের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করেন। শুক্রবার রাতে সেলিনা প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন টের পেয়ে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে সেলিনার সঙ্গে লতিফ ও তাঁদের পরিবারের লোকজনের ঝগড়া হয়। এ ঘটনার পর শনিবার সকালে ঘরের ভেতর তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

গৃহবধূর মামা ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুরাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাগনিকে (সেলিনাকে) সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সেলিনার স্বামী, স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী, স্বামীর ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রী মিলে তাঁকে হত্যা করেছেন।

হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর শরীরে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কান দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0