বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মৃত মিতালীর মা ফুলমালা অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পরে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের এক বছর পর থেকে বিভিন্ন সময় মিন্টু বৈদ্য ও তাঁর মা পুষ্প বৈদ্য যৌতুকের জন্য মিতালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। মেয়ের সুখের জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর আরও টাকার জন্য মিতালীকে প্রায়ই মারধর করা হচ্ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস–মীমাংসার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যেই মিন্টু বৈদ্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমার মেয়ে বাধা দিলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করা হবে বলে মেয়েকে হুমকি দেন মিন্টু। মিতালী বিষয়টি বুধবার আমাকে জানিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু আমি বুঝিয়ে ধৈর্য ধরার জন্য মেয়েকে বলি। আমি মেয়েকে নিয়ে এলে তাকে মরতে হতো না।’

ফুলমালা হালদার বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় যৌতুক ও অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের ঘটনায় মিন্টু বৈদ্য, শাশুড়ি পুষ্প বৈদ্যসহ বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মিতালীর ঝগড়াঝাঁটির ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে আটটার দিকে মিতালীকে তাঁর স্বামী–শাশুড়িসহ বাড়ির লোকজন নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে মিতালীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। এরপর আমাকে খবর পাঠানো হয়। খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে লাশ উদ্ধার করি। পুলিশের খবর পেয়ে মিন্টু ও তাঁর মা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।’

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শনিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই দিন মিতালীর মা ফুলমালা বাদী হয়ে মিন্টু বৈদ্য ও পুষ্প বৈদ্যর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার–পাঁচজনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন